পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
মি. সিফাত সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করেন। অপরদিকে একতা সংঘ ও জনতা সংঘ নামের দুই সমিতি তাদের সভাপতি নির্বাচনের সিন্ধান্ত নিল। একতা সংঘ তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি নির্বাচন করল। অন্যদিকে জনতা সংঘ গোপন ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন করল।
- ক)(1)
সরকার কাকে বলে?
- খ)(2)
রাজনৈতিক দল কীভাবে সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে?
- গ)(3)
মি. সিফাত যে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি তার কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
একতা সংঘ ও জনতা সংঘের নির্বাচন পদ্ধতির মধ্যে কোনটি তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ ও বিচার কার্য পরিচালিত হয় এবং রাষ্ট্রের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়, তাকে সরকার বলে।
- খ)
রাজনৈতিক দল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে একটি অভিন্ন আদর্শ ও লক্ষ্যের অধীনে সংগঠিত করে। ফলে ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল ও পেশার ভেদাভেদ কমে যায়। দল জনগণের সাধারণ সমস্যা তুলে ধরে এবং সবার জন্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি দেয়। এর মাধ্যমে মানুষ একই লক্ষ্যে একত্রিত হয় এবং সামাজিক ঐক্য গড়ে ওঠে।
- গ)
মি. সিফাত নির্বাচন কমিশনের সভাপতি, অর্থাৎ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করেন।
নির্বাচন কমিশনের কার্যাবলি-
১. রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন তত্ত্বাবধান করা।
২. নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা।
৩. ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ করা।
৪. প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা।
৫. নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। - ঘ)
একতা সংঘ পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি করেছে, আর জনতা সংঘ গোপন ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন করেছে। আমার কাছে জনতা সংঘের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য মনে হয়।
১. গণতান্ত্রিক পদ্ধতি: গোপন ভোটে সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। এতে সবার মতামতের মূল্য সমান থাকে।
২. ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত: গোপন ভোটে কে কাকে ভোট দিল তা জানা যায় না, তাই চাপ বা প্রভাবের আশঙ্কা কম থাকে।
৩. সবার আস্থা: ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তির প্রতি সদস্যদের সমর্থন থাকে এবং সংগঠনে বিরোধ কম হয়।
৪. একতা সংঘের দুর্বলতা: পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি করলে সবার মতামত প্রতিফলিত হয় না, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ থাকে।সুতরাং, জনতা সংঘের গোপন ভোটের পদ্ধতিই অধিক গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও