হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
হৃদয় বাবু একজন ধার্মিক, প্রজ্ঞাবান ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি ক্ষমাশীল, ক্ষমতার দম্ভ তার একেবারেই নেই। অপরপক্ষে একই অফিসে একই পদে চাকরি করে দীপক বাবু সব সময় অনৈতিক উপায়ে মানুষের কাছে অর্থ আদায় করে। অফিসে সবার কাছে দীপক বাবু একজন অসৎ, ঠগ, প্রতারক হিসেবে পরিচিত।
- ক)(1)
ধর্মের বাহ্যলক্ষণ কয়টি?
- খ)(2)
"নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের এক নিবিড় সম্পর্ক"- কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হৃদয় বাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে ধার্মিকের স্বরূপ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের হৃদয় বাবু ও দীপক বাবুর শেষ পরিণতি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ধর্মের বাহ্যলক্ষণ দশটি।
- খ)
নৈতিক মূল্যবোধ হলো ভালো-মন্দ বিচারের বোধ বা মানদণ্ড। যে কাজকে ন্যায় ও কল্যাণকর মনে করে তা মেনে চললে ধর্ম হয়, আর যা ভালো নয় তা করলে অধর্ম হয়। অর্থাৎ নৈতিক মূল্যবোধ মানদণ্ড এবং ধর্ম তার সিদ্ধান্ত। নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনের উদ্দেশ্য একই—যেমন দুটিই বলে 'রাগ করবে না'। নৈতিকতা ধার্মিকের গুণ। তাই নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে ধর্মপথের নিবিড় সম্পর্ক।
- গ)
উদ্দীপকের হৃদয় বাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে ধার্মিকের স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে।
ধার্মিকের স্বরূপ: ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ, সত্য, ধী, বিদ্যা, অক্রোধ) যাঁর মধ্যে প্রকাশ পায়, তিনিই ধার্মিক। পাঠ্যবইয়ে ধার্মিকের স্বরূপ এভাবে বর্ণিত—
১. ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না, ক্ষমার সামর্থ্য থাকলে ক্ষমা করেন এবং ক্ষমতার দম্ভ দ্বারা পরিচালিত হন না। তিনি সর্বাবস্থায় নিজেকে সংযত রাখেন।
২. তিনি ইন্দ্রিয় ও কাম-ক্রোধ-লোভকে দমন করেন।
৩. তিনি ধীশক্তিসম্পন্ন, নানা বিদ্যায় পারদর্শী ও সত্যপ্রিয়। সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন।
৪. তিনি বিনয়ী ও সমদর্শী; দান, দয়া ও জীবসেবাকে কর্তব্য মনে করেন।উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: হৃদয় বাবু ধার্মিক, প্রজ্ঞাবান ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান। তিনি ক্ষমাশীল এবং উচ্চপদস্থ হয়েও ক্ষমতার দম্ভ নেই। এগুলো ধার্মিকের ক্ষমা, ধী ও ধৃতি-সংক্রান্ত গুণের সঙ্গে হুবহু মেলে।
অতএব, হৃদয় বাবুর মধ্যে ধার্মিকের স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
হৃদয় বাবু ধার্মিক এবং দীপক বাবু অধার্মিক। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তাঁদের পরিণতি সম্পূর্ণ বিপরীত।
ধারণা: মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম রক্ষিত হলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করেন; আর ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে। ধার্মিক সাময়িক কষ্ট পেলেও পরিণামে ধর্মের জয় হয়।
১. হৃদয় বাবুর পরিণতি: ধার্মিক সদা সন্তুষ্ট, সদানন্দ ও প্রফুল্ল থাকেন। প্রাপ্তি তাঁকে অহংকারী করে না, অপ্রাপ্তি বিষণ্ণ করে না। তিনি কর্মের ফল ঈশ্বরে সমর্পণ করেন, ত্যাগ করে আনন্দ পান ও সেবা করে তৃপ্ত হন। হৃদয় বাবুও ক্ষমাশীল ও নিরহংকার।
২. ইহলোকে ও পরলোকে শান্তি: ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী ধার্মিক ইহলোকে শান্তি পান এবং পরলোকে স্বর্গ লাভ করেন। ধর্মকর্মের মাধ্যমে তাঁর জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয় এবং তিনি মোক্ষ বা চিরমুক্তি লাভ করেন।
৩. দীপক বাবুর পরিণতি: অধার্মিক সবসময় অতৃপ্ত ও বিষণ্ণ থাকেন। কাম, ক্রোধ ও লোভ তাঁকে তাড়িত করে অধঃপতন ঘটায়। দীপক বাবু অনৈতিক উপায়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন বলে অফিসে অসৎ, ঠগ ও প্রতারক হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ ইহলোকেই তিনি সম্মান হারিয়েছেন।
৪. দণ্ড ও নরকযন্ত্রণা: অধার্মিক কুকর্মের জন্য দণ্ডিত হন। কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয়, পাপ মৃত্যু ডেকে আনে এবং পাপী নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন। পরে তাঁকে মানবেতর প্রাণীরূপে জন্ম নিয়ে জন্ম-নরকযন্ত্রণা-মৃত্যুর চক্রে ঘুরতে হয়। তবে অধর্ম ত্যাগ করে ধর্মপথে এলে পাপীও পরিশুদ্ধ হয়ে ভগবানের করুণা পেতে পারেন।সুতরাং, হৃদয় বাবুর পরিণতি শান্তি ও মুক্তি আর দীপক বাবুর পরিণতি লাঞ্ছনা ও দুঃখ। এটি প্রমাণ করে, ধর্মের জয় ও অধর্মের পরাজয় অনিবার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও