যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: যুক্তিবিদ্যা ক্লাসে শিক্ষক বললেন, "আজ এমন। একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি'। এ নীতিটি মানুষের মনের এক অখণ্ড বিশ্বাস। একে বাদ দিয়ে আরোহ অনুমান সম্ভব নয়।"দৃশ্যকল্প-২: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ, জোয়ারভাটা ও গ্রহ নক্ষত্রের গতিবিধি প্রত্যক্ষ করেন।
- ক)(1)
কূটাভাস শব্দটির অর্থ কী?
- খ)(2)
কারণ ও শর্ত এক নয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহের কোন ভিত্তিটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ যে বিষয়টির প্রতিফলন রয়েছে তার সুবিধা ও অসুবিধা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কূটাভাস' শব্দটির পারিভাষিক অর্থ হলো আপাতবিরোধ বা এমন বক্তব্য যা বাহ্যত স্ববিরোধী মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তাতে কোনো সত্য নিহিত থাকে (Paradox)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কারণ হলো কোনো ঘটনার পূর্ববর্তী অপরিবর্তনীয়, শর্তহীন ঘটনা বা সমস্ত অনুকূল ও প্রতিকূল শর্তের সমষ্টি। অন্যদিকে শর্ত হলো কারণের একটি অবিচ্ছেদ্য বা অপরিহার্য অংশ। একাধিক শর্ত সম্মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ কারণ গঠন করে। তাই কারণ ও শর্ত এক নয়; কারণ একটি সমগ্র বিষয় এবং শর্ত হলো তার অংশবিশেষ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহের আকারগত ভিত্তির অন্যতম উপাদান 'প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি'র (Law of Uniformity of Nature) ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুযায়ী, প্রকৃতি সদৃশ পরিস্থিতিতে সবসময় সদৃশ আচরণ করে, অর্থাৎ অতীত ও বর্তমানে একই কারণে যে ফল পাওয়া গেছে, ভবিষ্যতেও একই ফল পাওয়া যাবে। এটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌল নীতি এবং মানুষের মনে প্রোথিত এক অটল বিশ্বাস। আরোহ অনুমানে আমরা কয়েকটি বিশেষ ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করি। এই বিশেষ থেকে সার্বিকে গমনের যৌক্তিক ভিত্তি প্রদান করে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি। উদ্দীপকে শিক্ষক যে নীতির কথা বলেছেন যা ছাড়া আরোহ অনুমান সম্ভব নয়, তা মূলত এই নীতিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কার্যক্রমের মাধ্যমে আরোহের বস্তুগত ভিত্তি 'নিরীক্ষণ' (Observation)-এর প্রতিফলন দেখা যায়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ছাড়া কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক ঘটনা স্বাভাবিক অবস্থায় অবলোকন করাই হলো নিরীক্ষণ। নিম্নে এর সুবিধা ও অসুবিধা বিশ্লেষণ করা হলো:
সুবিধা:
১. বিস্তৃত ক্ষেত্র: চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ, গ্রহ-নক্ষত্রের গতির মতো বিশাল প্রাকৃতিক ঘটনাকে গবেষণাগারে সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, কেবল নিরীক্ষণের মাধ্যমেই এগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
২. প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক অবস্থা: প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো যেভাবে ও যে অবস্থায় ঘটে, নিরীক্ষণের মাধ্যমে তাকে বিকৃত না করে ঠিক সেই অবস্থায় পর্যবেক্ষণ করা যায়।
৩. সহজসাধ্যতা ও সার্বজনীনতা: বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণের মতো জটিল যন্ত্রপাতি সবসময় না থাকলেও সচেতন দৃষ্টির সাহায্যে নিরীক্ষণ চালানো যায়।অসুবিধা:
১. প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা: ঘটনা কখন ঘটবে তার জন্য গবেষককে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়; নিজের ইচ্ছামতো ঘটনা ঘটানো যায় না।
২. শর্তের অপরিবর্তনীয়তা: নিরীক্ষণে ঘটনার শর্তগুলোকে নিজের মতো করে পরিবর্তন, বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যায় না।
৩. ভ্রান্ত নিরীক্ষণের সম্ভাবনা: মানুষের ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় পর্যবেক্ষণ নির্ভুল হয় না, ফলে অনিরীক্ষণ বা ভ্রান্ত নিরীক্ষণ অনুপপত্তি ঘটতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও