ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে নগদ অর্থের লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অর্থবাজারে কলমানি রেট ৩.০০% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪.০০% হয়েছে। ফলে অর্থবাজারে ব্যাংক সুদের হারও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোগ্যপণ্যের ঋণের হার ৬% থেকে হ্রাস করে ৫% করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
- ক)(1)
নিকাশ ঘর কী?
- খ)(2)
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেন ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন পরিমাণগত পদ্ধতি গ্রহণ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থ বাজারে নগদ অর্থের যোগান বৃদ্ধিতে সহায়ক? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিকাশ ঘর হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও সুরক্ষিত ব্যবস্থা বা স্থান, যেখানে সদস্য ব্যাংকগুলো একত্রিত হয়ে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে যখন অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তখন শেষ আশ্রয় হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়ে ঋণ সুবিধা পায় বলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
তালিকভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দেখা দিলে তারা প্রথমে অর্থবাজারের অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেয়। কিন্তু কোথাও সাহায্য না পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের প্রথম শ্রেণির বিল বা সিকিউরিটিজ বাট্টাকরণের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে ব্যাংকব্যবস্থাকে দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষা করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের পরিমাণগত পদ্ধতি হিসেবে 'ব্যাংক হার নীতি' (Bank Rate Policy) গ্রহণ করেছে (তবে দৃশ্যপটে ভোগ্যপণ্যের ঋণের ক্ষেত্রে কিস্তি বা সুদের নীতিও উল্লেখিত হয়েছে; কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থবাজারের সুদের হারের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও কলমানি রেটের প্রেক্ষিতে গৃহীত পরিবর্তনটি ঋণ নিয়ন্ত্রণের নীতি সংশ্লিষ্ট)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয় তাকে ব্যাংক হার বলে। বাজারে মুদ্রার প্রবাহ বা সুদের হার ওঠানামা করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বা নীতিগত সুদের হার পরিবর্তনের মাধ্যমে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। উদ্দীপকে অর্থবাজারে সুদের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কলমানি রেট বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক ব্যাংক সুদের হারের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি সামাল দিতে ঋণ নিয়ন্ত্রণের নীতি প্রয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করে। লক্ষণীয় যে, ভোগ্যপণ্যের ঋণের হার কমানো মূলত গুণগত বা নির্বাচনী পদ্ধতির আওতাভুক্ত হলেও প্রশ্নানুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক সুদের হার সংশ্লিষ্ট এই পদক্ষেপ ঋণ কাঠামোর регулиরনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থবাজারে নগদ অর্থের যোগান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সাধারণত ভোগ্যপণ্যের ঋণের সুদের হার হ্রাস পেলে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ গ্রহণ সহজ ও সাশ্রয়ী হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ঋণের সুদের হার বা ঋণের শর্ত শিথিল করে, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বাজারে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক অর্থনীতিতে নগদ তারল্য বা অর্থের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে নগদ অর্থের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কলমানি রেট ৩.০০% থেকে বেড়ে ৪.০০% হয়েছে এবং ব্যাংক সুদের হারও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, যা বাজারে তারল্য সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এরূপ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোগ্যপণ্যের ঋণের হার ৬% থেকে হ্রাস করে ৫% নির্ধারণ করেছে। ঋণের সুদের হার কমানোর ফলে ঋণগ্রহীতারা ঋণ নিতে উৎসাহিত হবে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাজারে অধিক ঋণ বিতরণ করবে এবং ফলশ্রুতিতে সাধারণ মানুষের হাতে এবং বাজারে নগদ অর্থের যোগান বৃদ্ধি পাবে।
অতএব, ঋণের হার কমানোর এ পদক্ষেপটি অর্থবাজারে ঋণের চাহিদা ও সরবরাহ বাড়িয়ে নগদ অর্থের যোগান স্বাভাবিক করতে এবং তারল্য চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও