বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে রাখির বাবার ৯০% লিভার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় লিভার প্রতিস্থাপনই তাঁকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়। অন্য কোনো উপায় না থাকায় রাখি তাঁর নিজের লিভারের একটা অংশ তাঁর বাবাকে দান করেন। এতে তাঁর বাবা বেঁচে যান। এখন বাবা-মেয়ে দুজনই সুস্থ জীবনযাপন করছেন।
- ক)(1)
'জীবন বিনিময়' কবিতায় কার চোখে নিদ নাই?
- খ)(2)
'জীবন বিনিময়' কবিতায় কবি নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাখির বাবার পরিস্থিতি 'জীবন বিনিময়' কবিতার কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের রাখি যেন 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরেরই প্রতিচ্ছবি।"—তুমি কি এ কথার সাথে একমত? যুক্তিসহ লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাদশা বাবরের চোখে নিদ নাই।
- খ)
বাদশা বাবরের প্রিয় পুত্র হুমায়ুন মৃত্যুশয্যায়। সবাই অসহায়ভাবে চুপ করে আছে, কোনো উপায় বের করতে পারছে না। এই নীরবতা কোনো সান্ত্বনা দেয় না, বরং ব্যথা ও শঙ্কাকে আরও ভারী করে তোলে। পিতার মনে এই নীরবতা তাই অসহনীয় ও নিষ্ঠুর বলে মনে হয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকে রাখির বাবার জীবন বিপন্ন, লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় হুমায়ুনও মৃত্যুশয্যায়, চিকিৎসকেরা অসহায়। দুই ক্ষেত্রেই প্রিয়জনের জীবন সংকটাপন্ন।
রাখি নিজের লিভারের অংশ দান করে বাবাকে বাঁচিয়েছেন। কবিতায় বাবরও নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্র হুমায়ুনকে বাঁচাতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। সাদৃশ্য হলো প্রিয়জনকে বাঁচাতে নিজের জীবনের অংশ বা জীবন উৎসর্গ। - ঘ)
উদ্দীপকের রাখি তাঁর অসুস্থ বাবাকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দান করেছেন। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাদশা বাবর মৃত্যুপথযাত্রী পুত্র হুমায়ুনকে বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করার প্রার্থনা করেন। আমি মন্তব্যের সঙ্গে আংশিক একমত।
১. দুজনেই প্রিয়জনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন; তাঁদের মধ্যে গভীর স্নেহ ও দায়িত্ববোধ আছে।
২. দুজনেরই ত্যাগের উদ্দেশ্য প্রিয়জনের জীবন রক্ষা।
৩. তবে পার্থক্য আছে: রাখি শারীরিকভাবে লিভারের অংশ দিয়েছেন এবং নিজে বেঁচে আছেন, আর বাবর নিজের প্রাণ বিনিময় করেছেন এবং তাঁর মৃত্যু হয়।
সুতরাং, ত্যাগের মানসিকতার দিক থেকে রাখি বাবরের প্রতিচ্ছবি—মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও