বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আজিজ সাহেব একজন শিল্পপতি। হঠাৎ একদিন অগ্নিকাণ্ডে তার পোশাক কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে বন্ধু আলতাফের সহযোগিতার আশ্বাসে পুনরায় কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। এখন প্রায়ই তিনি বিমর্ষ হয়ে বসে থাকেন। ছেলে জাবেদ বাবাকে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরতে বলেন; শীঘ্রই সংসারের হাল ধরার এবং ছোটো বোন সীমাকে বিয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিন্তু সীমা বিয়েতে রাজি না হয়ে লেখাপড়া শিখে ভাইয়ের সাথে বাবাকে সহযোগিতা করতে চায় ।
- ক)(1)
সূর্যাস্ত আইন কখন প্রণীত হয়?
- খ)(2)
‘খোদার ভেদ বোঝা সত্যই মুশকিল।’— ‘বহিপীর' নাটকের বহিপীর এ কথা বলেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আজিজ সাহেব ‘বহিপীর' নাটকে কোন চরিত্রের প্রতিবিম্ব ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সীমা ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রের সার্থক প্রতিনিধিত্ব করে কি? তোমার মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সূর্যাস্ত আইন ১৭৯৩ সালে প্রণীত হয়।
- খ)
নৌকাডুবির দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার পর বহিপীর কথাটি বলেছেন। ঝড়ের রাতে হাতেম আলির বজরার সাথে ধাক্কা লেগে পীরসাহেবের নৌকা আধা-ডোবা হয়। তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং ঘটনাচক্রে এই বজরাতেই আশ্রয় পান। কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, কেন তিনি বেঁচে গেলেন আর কেন এই বজরাতেই আশ্রয় পেলেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাই সবকিছু খোদার ইচ্ছা মনে করে তিনি বলেছেন, খোদার ভেদ বোঝা সত্যই মুশকিল।
- গ)
উদ্দীপকের আজিজ সাহেব ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের প্রতিবিম্ব।
আজিজ সাহেবের পোশাক কারখানা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধু আলতাফের সহযোগিতার আশ্বাসে তিনি আবার কারখানা চালুর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং বিমর্ষ হয়ে পড়েন। নাটকে হাতেম আলির জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে ওঠে। জমিদারি বাঁচাতে তিনি বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে সাহায্যের আশা করেছিলেন, কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হয়ে হতাশ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। দুজনেই সর্বস্ব হারানোর যন্ত্রণায় ভুগছেন, তাই আজিজ সাহেব হাতেম আলিরই প্রতিবিম্ব।
- ঘ)
উদ্দীপকের সীমা ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রের আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে; পুরোপুরি সার্থক প্রতিনিধি বলা যায় না।
১. সীমা বিয়েতে রাজি না হয়ে লেখাপড়া শিখে বাবা-ভাইকে সহযোগিতা করতে চায়। তাহেরাও নিজের অমতে বৃদ্ধ পীরের সাথে বিয়ে মেনে নেয়নি। এ জায়গায় দুজনের ইচ্ছাশক্তি ও আত্মমর্যাদাবোধ এক।
২. সীমা পরিবারের ভেতরে থেকে ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছে। কিন্তু তাহেরা সমাজ, পিতা ও পীরের চাপের বিরুদ্ধে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। বজরায় সবাই বিপক্ষে গেলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরেনি, যা সীমার চরিত্রে নেই।
৩. তাহেরা অনমনীয় হয়েও মানবিক; হাতেম আলির অসহায়তা জেনে সে ফিরে যেতে রাজি হয়েছে। আবার শেষে হাশেমের হাত ধরে অজানা জীবনের পথে বেরিয়েছে। সীমার চরিত্রে এই সংগ্রাম ও ত্যাগের দিক নেই।
সুতরাং, বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে সীমা তাহেরার সাথে মিলে গেলেও তাহেরার বিদ্রোহী ও সংগ্রামী রূপ সীমার মধ্যে নেই; তাই সে আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও