ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

সজল একজন ফল বিক্রেতা। তিনি ফল বিক্রি করার সময় ভালো ফলের সাথে দু- চারটি নষ্ট ফল ক্রেতাকে দিয়ে ভালো ফলের মূল্য গ্রহণ করেন। তারই বাল্যবন্ধু কায়েস একজন কর্মকর্তা। তিনি চাকরিকালে অনেক লোকদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করেন। উপহার পেতে দ্রুত তাদের ফাইলে স্বাক্ষর করেন। যারা উপহার দেন না তাদের ফাইলে স্বাক্ষর করতে অকারণে বিলম্ব করেন।

  1. ক)

    ইজমার পরিচয় দাও।

    (1)
  2. খ)

    আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ফল বিক্রেতা সজলের কর্মকাণ্ডে আখলাকে যামিমার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কায়েস সাহেবের উপহার গ্রহণ পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত তা চিহ্নিত করে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনো যুগের মুজতাহিদ আলেমগণ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কোনো বিষয়ে একমত হয়ে যে সিদ্ধান্ত নেন, তাকে ইজমা বলে।

  2. খ)

    সুদ হারাম, কারণ এটি শোষণমূলক ব্যবস্থা। সুদে ধনী আরও ধনী ও গরিব আরও গরিব হয়। ঋণগ্রহীতা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়। এতে সমাজে বৈষম্য, বিদ্বেষ ও অশান্তি সৃষ্টি হয়। সুদ মানুষের মধ্যে দয়া, সহমর্মিতা ও পরোপকারের মনোভাব নষ্ট করে। তাই আল্লাহ সমাজের কল্যাণের জন্য সুদ হারাম করেছেন (সূরা আল-বাকারা, ২:২৭৫)।

  3. গ)

    ফল বিক্রেতা সজলের কর্মকাণ্ডে প্রতারণা (ধোঁকা) প্রকাশ পেয়েছে। ভালো ফলের মূল্য নিয়ে তার সাথে নষ্ট ফল মিশিয়ে দেওয়া ক্রেতাকে ঠকানো। মহানবি (স.) বলেছেন, যে ধোঁকা দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয় (সহিহ মুসলিম)। ব্যবসায় পণ্যের দোষ গোপন করা ও ক্রেতাকে ঠকানো হারাম। এতে ক্রেতার আস্থা নষ্ট হয় এবং উপার্জনে বরকত থাকে না। তাই সজলের কাজ আখলাকে যামিমাহর অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    কায়েস সাহেবের উপহার গ্রহণ ঘুষ (রিশওয়াত)-এর সাথে সম্পৃক্ত। দায়িত্বপালনের বিনিময়ে বা কাজের সুবিধা দেওয়ার জন্য গৃহীত অর্থ বা উপহার ঘুষ। তিনি উপহার পেলে দ্রুত ফাইলে স্বাক্ষর করেন, আর না পেলে অকারণে বিলম্ব করেন।

    পরিণতি:
    ১. মহানবি (স.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন (আবু দাউদ, তিরমিযি)। আখিরাতে এর শাস্তি জাহান্নাম।
    ২. দায়িত্বে আমানতের খিয়ানত হয়, যোগ্য মানুষ তার প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয় এবং অবিচার বাড়ে।
    ৩. সমাজে দুর্নীতি ছড়ায় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। হারাম আয়ে ইবাদত ও দোয়াও কবুল হয় না।

    সুতরাং, কায়েস সাহেবের উচিত ঘুষ বর্জন করে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন