বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

বিজ্ঞান প্রশ্ন

পানির অপর নাম জীবন। তার একটি মানদণ্ড হলে pH। কিন্তু বর্তমানে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তা মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

  1. ক)

    পরিস্রাবণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ইলিশ মাছ সমুদ্র থেকে নদীতে আসে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মানদণ্ডটি জলজ জীবের জন্য কীভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত পদার্থটির দূষণরোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরিস্রাবণ হলো ছাঁকনি বা ফিল্টার কাগজের সাহায্যে তরলের সঙ্গে মিশে থাকা অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থকে আলাদা করার প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    ইলিশ মাছ প্রজননের জন্য সমুদ্র থেকে নদীতে আসে। সমুদ্রের লোনা পানির চেয়ে নদীর মিঠা পানি ইলিশের ডিম পাড়া এবং ডিম ও পোনার বেড়ে ওঠার জন্য উপযোগী।

    নদীর মোহনা ও স্রোতযুক্ত মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ার পর নিষিক্ত ডিম থেকে পোনা জন্মায় এবং পোনারা কিছুদিন সেখানে বড় হয়। তাই বর্ষাকালে ইলিশ ঝাঁক বেঁধে নদীতে আসে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের মানদণ্ডটি হলো পানির pH। এটি পানি অম্লীয়, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে। জলজ জীবের জন্য pH এর ভূমিকা :

    ১. জলজ জীবের জন্য পানির pH সাধারণত ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে থাকা উপযুক্ত। এ সীমার মধ্যে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী স্বাভাবিকভাবে বাঁচে, খাদ্য গ্রহণ করে ও বংশবিস্তার করে।
    ২. pH ৬.৫ এর কম হলে পানি অম্লীয় হয়ে মাছের ফুলকা ও ত্বকের ক্ষতি করে এবং বৃদ্ধি ও প্রজনন ব্যাহত হয়।
    ৩. pH ৮.৫ এর বেশি হলে পানি অতি ক্ষারীয় হয়, ফলে মাছের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
    ৪. pH ঠিক থাকলে জলজ উদ্ভিদ ও প্লাঙ্কটন ভালো জন্মায়, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য।

    তাই জলজ জীবের জন্য pH একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পদার্থটি হলো পানি। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পানি দূষিত হচ্ছে। এ দূষণ রোধে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যায় :

    ১. শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ : কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং পরিশোধনের পর বর্জ্য নদীতে ফেলা।
    ২. গৃহস্থালি ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আবর্জনা, প্লাস্টিক ও মলমূত্র সরাসরি নদী-নালায় ফেলা বন্ধ করে সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
    ৩. কৃষিতে সতর্কতা : রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
    ৪. আইন প্রয়োগ : পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ ও দূষণকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
    ৫. জনসচেতনতা : পানি দূষণের কুফল সম্পর্কে গণমাধ্যম ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা।

    সুতরাং, সরকারি উদ্যোগ, শিল্প-কারখানার দায়িত্বশীলতা ও জনসচেতনতার সমন্বয়ে পানিদূষণ রোধ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন