বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২০
বিজ্ঞান প্রশ্ন
হাফিজ সাহেবের বিয়ের প্রায় দশ বছর। বহু ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েও তিনি বাবা হতে পারেননি। তার বন্ধুর পরামর্শে হাফিজ সাহেব ও তার স্ত্রী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করে স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করেন। অন্যদিকে হাফিজ সাহেবের ভাইয়ের মেয়েকে তার বাবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সে বিয়ে দেয়। এতে মেয়েটি বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ে।
- ক)(1)
নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে?
- খ)(2)
লিমুলাসকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিশেষ প্রক্রিয়াটি কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
হাফিজ সাহেবের ভাইয়ের মেয়েটি কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যেসব অঙ্গ পূর্বপুরুষের দেহে কার্যকর ছিল, কিন্তু বর্তমান জীবের দেহে অব্যবহারের ফলে কার্যক্ষমতা হারিয়েছে, সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।
- খ)
যেসব জীব কোটি কোটি বছর ধরে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় টিকে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় ও সমসাময়িক অনেক জীব বিলুপ্ত হয়েছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া এমন একটি সন্ধিপদ প্রাণী। এর আদি পূর্বপুরুষের সাথে বর্তমান প্রজাতির গঠনগত মিল রয়েছে। তাই একে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের বিশেষ প্রক্রিয়াটি হলো টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতি বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)।
এ পদ্ধতিতে নারীর ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু এবং পুরুষের শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাগারে কৃত্রিম পরিবেশে (দেহের বাইরে) এদের মিলন ঘটিয়ে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোট তৈরি করা হয়। জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রূণে পরিণত হলে তা নারীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। সেখানে ভ্রূণ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। যেসব দম্পতি প্রাকৃতিকভাবে সন্তান নিতে পারেন না, তাদের জন্য এ পদ্ধতি উপকারী।
- ঘ)
হাফিজ সাহেবের ভাইয়ের মেয়ে ১৪ বছর বয়সে বিয়ের কারণে অর্থাৎ বাল্যবিবাহের ফলে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নানা সমস্যায় পড়তে পারে।
১. শারীরিক সমস্যা: এ বয়সে দেহ গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত থাকে না। ফলে গর্ভকালীন জটিলতা, রক্তস্বল্পতা, প্রসবকালীন ঝুঁকি, এমনকি মাতৃমৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া কম ওজনের বা অপুষ্ট শিশু জন্মাতে পারে।
২. মানসিক সমস্যা: ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে ও দায়িত্বের চাপে মেয়েটি হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগতে পারে।
৩. সামাজিক সমস্যা: পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ কমে এবং পারিবারিক নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়ে।সুতরাং, এসব ক্ষতি এড়াতে আইনসম্মত বয়সের (মেয়েদের ১৮ বছর) আগে বিয়ে বন্ধ করা এবং সচেতনতা বাড়ানো উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও