সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম : প্রকৃতি ও পরিধি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

সভ্যতার বিবর্তন, জ্ঞানবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ তথা শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজজীবনে নানাবিধ জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উদ্ভব হয়। উদ্ভাবিত শাথার মধ্যে এমন একটি বিশেষ শাখা রয়েছে, যা মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন ও প্রাপ্ত সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সুখী ও সমৃদ্ধশালী জীবন ধারণে পদ্ধতিনির্ভর সেবাদান করে।

  1. ক)

    'Introduction to Social Welfare' গ্রন্থের লেখক কে?

    (1)
  2. খ)

    'সমাজকর্ম একটি সংগঠিত সাহায্য দান প্রক্রিয়া'- বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন বিশেষ শাখার ইঙ্গিত রয়েছে তার পরিচয় তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখে তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Introduction to Social Welfare' গ্রন্থের লেখক হলেন ড. ওয়াল্টার এ. ফ্রিডল্যান্ডার (Walter A. Friedlander)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজকর্ম কেবল অপরিকল্পিত বা খামখেয়ালীভাবে কোনো সাহায্য দেওয়া নয়; বরং এটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, বিশেষ পদ্ধতি ও মানবীয় মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদার সেবা। সমাজকর্ম ব্যক্তিকে এমনভাবে দক্ষ ও সক্ষম করে গড়ে তোলে যাতে সে তার নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে পারে। এ কারণেই সমাজকর্মকে একটি সংগঠিত ও কার্যকর সাহায্যদান প্রক্রিয়া বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিশেষ শাখাটি হলো 'সমাজকর্ম' (Social Work)।

    সমাজকর্ম হলো একটি আধুনিক, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতানির্ভর পেশা এবং সাহায্যকারী প্রক্রিয়া। শিল্প বিপ্লবোত্তর আধুনিক সমাজে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির নানাবিধ জটিল মনোদৈহিক ও সামাজিক সমস্যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমাধানের লক্ষ্যেই আধুনিক সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট জটিল সমস্যা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে যে বিশেষ শাখার উদ্ভব হয়েছে, যা মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন ও সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে পদ্ধতিনির্ভর সেবাদান করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সমাজকর্মের মৌলিক ধারণাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। সমাজকর্ম মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির (যেমন—ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সমষ্টি সংগঠন) মাধ্যমে মানুষকে সক্ষমকারী সেবা প্রদান করে সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি অর্থাৎ 'সমাজকর্ম' আধুনিক জটিল সমাজে মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন: সমাজকর্ম মানুষকে পরনির্ভরশীল না করে তার ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা ও শক্তিকে জাগ্রত করে এবং নিজের সমস্যা নিজে সমাধানের উপযোগী করে তোলে।

    ২. সম্পদের সদ্ব্যবহার: সমাজকর্ম ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনে সাহায্য করে।

    ৩. বহুমুখী সমস্যার সমাধান: শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে সৃষ্ট পরিবার ভাঙন, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, মানসিক চাপ ও মাদকাশক্তির মতো জটিল সমস্যাগুলো সমাজকর্মের সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে সমাধান করা হয়।

    ৪. সামগ্রিক কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন: সমাজকর্ম শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক কাজেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি প্রতিরোধমূলক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে।

    সুতরাং, সমাজকর্ম তার নিজস্ব বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও মূল্যবোধ প্রয়োগের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন