বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রজাপতির দুই পক্ষ। বরপক্ষ এবং কন্যাপক্ষ। বরপক্ষ কন্যাপক্ষের কাছে নগদ পঞ্চশ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চেয়ে বসল। নিত্যানন্দ রায় কোনোকিছু বিবেচনা না করে তাতেই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে গেল। তার মতে, এমন শিক্ষিত ছেলে আর বনেদি পরিবার, কিছুতেই হাত ছাড়া করা যায় না। তার ইচ্ছায় যন্ত্রারীতি আশীর্বাদ পর্ব শেষে শুভবিবাহের দিন ধার্য হয়ে গেল। নিত্যানন্দ অনেক কষ্ট স্বীকার করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করার পরও নিতান্ত এক তুচ্ছ কারণে বিয়ের আসরেই এই বিয়ে ভেঙে যায়।
- ক)(1)
বরের হাট কেমন?
- খ)(2)
'অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের শম্ভুনাথের সাদৃশ্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
'যৌতুক প্রথাই কি বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একমাত্র কারণ?' উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বরের হাট মহার্ঘ (খুব চড়া বা দুর্মূল্য)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি' বলতে অনুপমের মা-ঘেঁষা ও পরনির্ভরশীল স্বভাবকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
দেবী দুর্গা বা অন্নপূর্ণার কোলে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র কার্তিক যেমন আশ্রিত ও মাতৃস্নেহে লালিত হয়ে থাকে, অনুপমও তেমনই শৈশবে পিতৃহীন হয়ে মা ও মামার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে বেড়ে উঠেছে। ২৭ বছর বয়সেও অনুপমের কোনো নিজস্ব মতামত বা স্বাধীন ব্যক্তিত্ব ছিল না। সংসারে সে কেবল মায়ের বাধ্য সন্তান হয়েই ছিল, অনুপমের এই ব্যক্তিত্বহীন রূপটি তুলে ধরতেই উক্ত রূপকধর্মী উক্তিটি করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের শম্ভুনাথ সেনের কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা হিসেবে মেয়েকে ভালো পাত্রস্থ করার ইচ্ছার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ বাবু বরের মামার দাবি অনুযায়ী পণ ও অলঙ্কার দেওয়ার প্রাথমিক ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিলেন, কারণ তৎকালীন সমাজে শিক্ষিত ও ভালো বংশের পাত্রের সন্ধান পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ও ঠিক একই মানসিকতা থেকে কোনো বিবেচনা না করে বরপক্ষের নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মতো অন্যায্য দাবি মেনে নেন, কারণ তাঁর মতে সুশিক্ষিত ছেলে ও বনেদি পরিবার হাতছাড়া করা যায় না।
উভয় চরিত্রই মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যৌতুকের শর্ত মেনে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এই কন্যাদায়গ্রস্ত পিতৃসুলভ আকুলতার দিক থেকেই নিত্যানন্দ রায়ের সাথে শম্ভুনাথ সেনের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌতুক প্রথাই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একমাত্র প্রত্যক্ষ কারণ নয়, বরং এর মূলে রয়েছে বরপক্ষের লোভ, অবিশ্বাস, নীচতা এবং আত্মমর্যাদাবোধের সংঘাত।
'অপরিচিতা' গল্পে শম্ভুনাথ সেন কিন্তু যৌতুক দিতে অস্বীকার করেননি। তিনি মেয়ের গা ভরতি গহনা দিয়েছিলেন এবং যৌতুকের নগদ টাকাও এনে প্রস্তুত রেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ের লগ্ন চলাকালে অনুপমের লোভী মামা স্বর্ণকারের মাধ্যমে সেই গহনা যাচাই করে শম্ভুনাথ বাবুকে প্রকাশ্যে অপমান ও অবিশ্বাস করেন। এই চরম নীচতা ও অসম্মানজনক আচরণ শম্ভুনাথ বাবুর আত্মমর্যাদায় আঘাত হানে। তিনি বুঝতে পারেন, যেখানে বিশ্বাস ও সম্মান নেই, সেখানে মেয়েকে তুলে দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। তাই শম্ভুনাথ বাবু দৃঢ়তার সাথে বিয়ে ভেঙে দেন। অন্যদিকে অনুপমের কাপুরুষতা ও প্রতিবাদহীনতাও বিয়ে ভাঙার অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, নিত্যানন্দ রায় যৌতুক মেনে নিলেও শেষ পর্যন্ত আসরে তুচ্ছ বিষয়ে বিয়ে ভেঙে যায়। অর্থাৎ যৌতুক সমাজকে কলুষিত করে এক চরম অসম্মানজনক পরিবেশের সৃষ্টি করে, কিন্তু বিয়ে ভাঙার চূড়ান্ত কারণ হয়ে দাঁড়ায় বরপক্ষের সংকীর্ণ মনোভাব, অসম্মান এবং কন্যাপক্ষের আত্মসম্মানবোধের জাগরণ। সুতরাং, কেবল যৌতুক প্রথাই নয়, আত্মমর্যাদার অবমাননা ও অসদাচরণই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রধান ও নির্ধারক কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও