পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৫২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির পক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে ও প্রাণ দেয়। দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের একজন শিক্ষক বিষয়টির গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, "উত্ত আন্দোলনের চেতনা থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।"
- ক)(1)
কোন আইনে ভারতবর্ষের মুসলমানদের জন্য সর্বপ্রথম 'পৃথক নির্বাচন' ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উক্ত আন্দোলন সম্পর্কে শিক্ষকের মন্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৯ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন (মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন)-এ ভারতবর্ষের মুসলমানদের জন্য সর্বপ্রথম 'পৃথক নির্বাচন' ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালি জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত, পরিকল্পিত ও নৃশংস গণহত্যা পরিচালনা করে, তাকে সামরিক পরিভাষায় 'অপারেশন সার্চলাইট' বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলন ও স্বাধিকার চেতনাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পরপরই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগুরু বাঙালির ওপর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। বাঙালিরা মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষায় তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে মিছিল বের করে। সেখানে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে সংঘটিত এই আত্মত্যাগই ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে শিক্ষকের মন্তব্যটি—"উক্ত আন্দোলনের চেতনা থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ"—সম্পূর্ণ যথার্থ এবং যৌক্তিক।
১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, ধর্মের মিল থাকা সত্ত্বেও জাতিগত ও ভাষাগত দিক থেকে বাঙালিরা স্বতন্ত্র। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলনই প্রথম জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
ভাষা আন্দোলনের সাফল্য বাঙালিদের আত্মবিশ্বাস জোগায়। এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পরবর্তীকালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা (১৯৫৪), আইয়ুববিরোধী আন্দোলন (১৯৫৮-৬২), ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন (১৯৬৬), আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং পরিশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
অতএব, ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবি আদায়ের সংগ্রাম ছিল না; বরং তা বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। সুতরাং শিক্ষকের বক্তব্যটি অনস্বীকার্য সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও