বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?
- খ)(2)
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব উল্লেখ করো।
- গ)(3)
"চিত্রে প্রদর্শিত নেতার ঐতিহাসিক ভাষণই বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করে"-ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উত্ত নেতার নির্মম হত্যাকান্ড বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কিত অধ্যায়"- মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- খ)
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয় দফার ভিত্তিতে অংশ নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব আসনে জয়ী হয় এবং জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এতে প্রমাণ হয় যে বাঙালি জাতি স্বায়ত্তশাসন চায়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় এ নির্বাচনই পরে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।
- গ)
চিত্রে প্রদর্শিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণই বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করে, কথাটি যথার্থ।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে তিনি ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' তিনি সবাইকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে যার যা আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলার আহ্বান জানান। এই ভাষণ বাঙালিকে সংগঠিত করে এবং স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিক শক্তি জোগায়।
- ঘ)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতির জন্য সত্যিই কলঙ্কিত অধ্যায়, আমি এ মতের সঙ্গে একমত।
১. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডির বাসভবনে একদল বিপথগামী সেনা সদস্য তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। যিনি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাঁকেই নিজের দেশের কিছু মানুষ হত্যা করেছে।
২. এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশে সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথও বন্ধ করা হয়।
৩. একই বছর ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়, যা জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করে।সুতরাং, জাতির পিতাকে হত্যা বাঙালির ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও বেদনাদায়ক অধ্যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও