বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা "সাহসী লড়াকু" খেতাবের যোগ্য, কারণ তারা গোপন তথ্য সরবরাহ, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছেন।
দৃশ্যপট-২: মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি জাতীয় চিহ্ন তৈরি হয়েছিল। সবুজ ক্ষেত্র দেশের শস্য-সমৃদ্ধ ভূমি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, আর লাল চক্র জাতির ত্যাগ ও রক্তস্রোতকে প্রকাশ করে। এটি কেবল একটি চিহ্ন নয়; দেশের জনগণের ঐক্য, সংগ্রাম ও জাতির অহংকারের প্রতীক।
- ক)(1)
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কখন প্রথম উত্তোলন করা হয়?
- খ)(2)
শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ কেন নির্মাণ করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত "সাহসী লড়াকু" অংশগ্রহণকারীদের দ্বারা কোন শ্রেণির অবদানের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত প্রতীকটি জাতীয় চেতনা বিকাশের সহায়ক— পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পশ্চিম গেটে ছাত্রনেতা আ. স. ম. আবদুর রব বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন।
- খ)
বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন আগে ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার ও আলবদর বাহিনী অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। এই শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়।
- গ)
দৃশ্যপট-১-এ গোপন তথ্য সরবরাহ, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের অবদানকে প্রতিফলিত করছে।
পাঠ্যবই অনুযায়ী সাধারণ জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার ফলেই মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বিজয় সম্ভব হয়েছে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছে, শত্রুর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য দিয়েছে এবং খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করেছে। অনেকে শহিদও হয়েছেন। ত্রিশ লাখ শহিদের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই ছিল বেশি। উদ্দীপকের বর্ণনা এই ভূমিকার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
- ঘ)
দৃশ্যপট-২-এ উল্লিখিত প্রতীকটি জাতীয় পতাকা, যা জাতীয় চেতনা বিকাশে সহায়ক।
১. ত্যাগের স্মারক: পতাকার সবুজ আয়তক্ষেত্র বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতির প্রতীক এবং লাল বৃত্ত শহিদদের রক্তের প্রতীক। এটি দেখলেই মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের কথা মনে পড়ে।
২. ঐক্যবদ্ধ করা: ১৯৭১ সালে মানচিত্রখচিত পতাকা বাঙালিকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল যে এ ভূখণ্ডে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
৩. পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান: ২রা মার্চ ১৯৭১ প্রথম পতাকা উত্তোলন ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করার শামিল। এ থেকে স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে পড়ে।
৪. আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক: জাতীয় পতাকা একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এর সম্মান রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য।সুতরাং, জাতীয় পতাকা ঐক্য, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে জাতীয় চেতনা বিকাশে সহায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও