হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রণয় বাবু তার কন্যা শিলাকে নতুন কাপড় ও স্বর্ণালঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করে একটি নির্দিষ্ট দিনে পাড়া-প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়দের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিলার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। অপরদিকে রথিনের ঠাকুর দাদা মারা গেলে রথিনদের বাড়িতে ঠাকুর দাদার আত্মার শান্তির জন্য দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গ করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
- ক)(1)
সমাবর্তন কাকে বলে?
- খ)(2)
নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিলার জীবনের নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
পারিবারিক জীবনে রথিনের ঠাকুর দাদার উদ্দেশ্যে পালিত অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।
- খ)
বিবাহের পর স্বামী স্ত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিলে সেটি একজন হিন্দু নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিঁদুর বিবাহ চিহ্ন। এরপর থেকে স্ত্রী স্বামীর জীবিত অবস্থায় সিঁথিতে সিঁদুর পরতে পারেন। এটি তাঁর বিবাহিত জীবন, নতুন মর্যাদা ও স্বামীর কল্যাণ কামনার প্রতীক। তাই এটি নারীর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
- গ)
শিলার জীবনের নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি ব্রাহ্মবিবাহ।
মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের উল্লেখ আছে: ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য, আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ। এর মধ্যে বর্তমান সমাজে ব্রাহ্মবিবাহই প্রচলিত। পাঠ্যবইয়ের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কন্যাকে বস্ত্র দিয়ে আচ্ছাদন করে এবং অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করে বিদ্বান ও সদাচারী বরকে আমন্ত্রণ করে কন্যা দান করাকে ব্রাহ্মবিবাহ বলে। এর সঙ্গে আছে সম্প্রদান, যজ্ঞানুষ্ঠান, সাতপাকে বাঁধা ও সিঁথিতে সিঁদুর পরানোর মতো পর্ব।
উদ্দীপকে প্রণয় বাবু কন্যা শিলাকে নতুন কাপড় ও স্বর্ণালঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করে পাড়া-প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। এ অনুষ্ঠানে শিলার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, অর্থাৎ বিবাহের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু। এসব বৈশিষ্ট্য ব্রাহ্মবিবাহের সঙ্গে সম্পূর্ণ মেলে। অতএব, শিলার অনুষ্ঠানটি ব্রাহ্মবিবাহ।
- ঘ)
রথিনের ঠাকুর দাদার মৃত্যুর পর আত্মার শান্তির জন্য দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গ করে যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়, তা আদ্যশ্রাদ্ধ। পারিবারিক জীবনে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো।
শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করা হয় তা আদ্যশ্রাদ্ধ। এতে মৃত ব্যক্তির নামে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, মালা, বিছানা প্রভৃতি মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করে পিণ্ডদান করা হয়। উদ্দীপকে ঠাকুর দাদার আত্মার শান্তির উদ্দেশে দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গের বর্ণনা এই অনুষ্ঠানকে নির্দেশ করে।
১. শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: পরিবারের গুরুজন যিনি স্নেহ-যত্নে বড় করেছেন, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এতে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের মধ্যে পূর্বপুরুষদের প্রতি সম্মানবোধ জাগে।
২. শোক ও পরিবারের একাত্মতা: পরিবারের সদস্য ও জ্ঞাতিবর্গ একত্র হয়ে দুঃখে একাত্ম হন। সকলে সমব্যথী হওয়ায় পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
৩. আত্মীয়দের মিলন: আদ্যশ্রাদ্ধ উপলক্ষে দূরের আত্মীয়স্বজন একত্র হন। এটি একটি মিলনমেলা হয়ে ওঠে এবং একজনের প্রতি আরেকজনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়ে।
৪. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা: এ অনুষ্ঠান দেখে নতুন প্রজন্ম সামাজিকতা, ধর্মীয় রীতি ও মূল্যবোধ শেখে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।সুতরাং, রথিনের ঠাকুর দাদার আদ্যশ্রাদ্ধ কেবল ধর্মীয় কর্তব্য নয়; এটি পারিবারিক ঐক্য, কৃতজ্ঞতাবোধ ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও