বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

হিমেল ও তুষার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হিমেল মনে করে পাশ করার জন্য শুধু পাঠ্যবই ভালো করে পড়লেই যথেষ্ট। কিন্তু তুষার মনে করে ভালো ফলাফল অর্জন করতে হলে পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও অন্যান্য বই পড়া প্রয়োজন। তুষার নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের মধ্যে না থেকে লাইব্রেরিতে গিয়েও বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে।

  1. ক)

    যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে কী দরকার?

    (1)
  2. খ)

    "দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার হয় না।"- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হিমেলের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের তুষারের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের অভিমত প্রতিফলিত হয়েছে।"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।,

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে নিজের চেষ্টায় শিক্ষা অর্জন করতে হয়, অর্থাৎ স্বশিক্ষিত হতে হয়। এ জন্য প্রয়োজন বই পড়ার অভ্যাস।

  2. খ)

    মানুষের দেহ নশ্বর। দেহের মৃত্যু হলে তার নথি বা রেজিস্টার রাখা হয়, কিন্তু মনের মৃত্যু হলে তার কোনো হিসাব রাখা হয় না। মন তখনই বেঁচে থাকে, যখন তা জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সজীব থাকে। বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে মনের বিকাশ থেমে যায় এবং মানুষ জীবিত থেকেও মনের দিক থেকে মৃত হয়ে পড়ে। লেখক এ কথার মাধ্যমে মনের চর্চার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকের হিমেল মনে করে, পাশ করার জন্য শুধু পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়াই যথেষ্ট। তার এ মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের পরীক্ষা পাসের উদ্দেশ্যে পাঠ্যবইকেন্দ্রিক সংকীর্ণ শিক্ষার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

    ১. প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, আমাদের সমাজে বই পড়াকে অনেক সময় কেবল পরীক্ষায় পাস করার উপায় হিসেবে দেখা হয়। সাহিত্য বা অন্যান্য বইয়ের প্রতি আগ্রহ কম।
    ২. হিমেলও মনে করে, পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার প্রয়োজন নেই। ফলে জ্ঞান ও আনন্দ লাভের বৃহত্তর সুযোগ তার কাছে অবহেলিত।
    ৩. এ মানসিকতায় মনের বিকাশ সীমিত থাকে।

    তাই হিমেলের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত সংকীর্ণ ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের তুষারের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের অভিমত প্রতিফলিত হয়েছে।

    ১. পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়া: তুষার মনে করে ভালো ফল পেতে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বই পড়া দরকার। লেখকও মনে করেন, শিক্ষালাভের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
    ২. লাইব্রেরির ব্যবহার: তুষার লাইব্রেরিতে গিয়ে বিভিন্ন বই পড়ে। প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং বই পড়ার জন্য লাইব্রেরি ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন।
    ৩. স্বশিক্ষা: লেখকের মতে, সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত। তুষার নিজের আগ্রহে পড়াশোনা করে স্বশিক্ষার পথে এগোচ্ছে।

    সুতরাং, তুষারের মানসিকতায় লেখকের অভিমত যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন