পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

উদ্দীপক-১: ভারতের নাগরিক সুমন কানাডায় ব্যবসা করেন। তার স্ত্রী হাসপাতালে তাদের কন্যা সন্তান ঐশির জন্ম দেন। কানাডারউদ্দীপক-২: কবির সাহেব তার জমির খাজনা দিতে গেলে স্থানীয় ভূমি অফিস অতিরিস্ত টাকা দাবি করে। তিনি ২০০৯ সালে প্রণীত আইন অনুযায়ী উপজেলায় কর্মরত একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে তার প্রকৃত খাজনার পরিমাণ জেনে নেন এবং ভূমি অফিসের দায়িত্বরত অতিরিক্ত টাকা দাবিকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করেন।

  1. ক)

    নাগরিক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সুনাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ঐশির ক্ষেত্রে নাগরিকতা অর্জনের কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপক-২-এ উল্লেখিত আইনটি নাগরিক অধিকারের রক্ষাকবচ- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্রপ্রদত্ত সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, তাকে নাগরিক বলে।

  2. খ)

    সুনাগরিক হলেন তিনি, যিনি সচেতন, শিক্ষিত, আইন মান্যকারী ও কর্তব্যপরায়ণ।

    এ ধরনের নাগরিক নিজের অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন, নিয়মিত কর দেন, সৎভাবে ভোট দেন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখেন। তাঁদের সক্রিয় ভূমিকায় রাষ্ট্র উন্নত ও শক্তিশালী হয়, তাই সুনাগরিককে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়।

  3. গ)

    ঐশির ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের জন্মস্থান নীতি (Principle of Place of Birth) প্রযোজ্য হবে।

    উদ্দীপকে ঐশি ভারতের নাগরিক সুমনের কন্যা, কিন্তু তার জন্ম হয়েছে কানাডার হাসপাতালে। জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী যে দেশে শিশুর জন্ম হয়, সেই দেশেরই নাগরিকত্ব লাভ করে; কানাডা এ নীতি অনুসরণ করলে ঐশি কানাডার নাগরিক হবে। অন্যদিকে রক্ত সম্পর্ক নীতিতে বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব অনুযায়ী ভারতের নাগরিক হওয়ার সুযোগ থাকে। সুতরাং, ঐশির ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকতা, বিশেষ করে জন্মস্থান নীতি, প্রযোজ্য।

  4. ঘ)

    উদ্দীপক-২-এ উল্লেখিত ২০০৯ সালের আইনটি হলো তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯। এই আইন নাগরিক অধিকারের রক্ষাকবচ, কারণ:

    ১. তথ্য জানার অধিকার: উদ্দীপকে কবির সাহেব এ আইনের মাধ্যমে ভূমি অফিস থেকে তার প্রকৃত খাজনার তথ্য জেনেছেন। ফলে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

    ২. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: এ আইন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নাগরিকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দিতে বাধ্য করে, যা কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে।

    ৩. দুর্নীতি প্রতিরোধ: তথ্য প্রকাশ হলে ঘুষ ও অনিয়ম কমে। নাগরিক অভিযোগ করার সুযোগও পায়।

    ৪. মতপ্রকাশ ও অধিকার আদায়ে সহায়ক: তথ্য জানার অধিকার চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করে।

    সুতরাং, তথ্য অধিকার আইন নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠায় রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন