বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
6.1.
সারমর্ম লেখো:
অদ্ভূত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ, সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই- প্রীতি নেই- করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজও মানুষের প্রতি,
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাঁদের হৃদয়।
6.2.
অথবা, ভাবসম্প্রসারণ করো:
সাহিত্য সমাজের দর্পণস্বরূপ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৬.১-এর উত্তর (সারমর্ম):
বর্তমান যুগে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। নীতিহীন, বিবেকহীন ও অসাধু ব্যক্তিরা আজ সমাজ ও পৃথিবী পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে, সৎ, সত্যনিষ্ঠ, মানবিক ও শিল্পানুরাগী আদর্শবান মানুষগুলো আজ চরম অবহেলিত ও কোণঠাসা। শুভ ও সুন্দরের এই পরাজয় এবং অন্ধকারের এই দাপট মানবিক সমাজের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশঙ্কাজনক।
৬.২-এর উত্তর (ভাবসম্প্রসারণ):
সাহিত্য সমাজের দর্পণস্বরূপ
মূলভাব: দর্পণ বা আয়নায় যেমন কোনো বস্তুর বাস্তব অবয়ব প্রতিবিম্বিত হয়, তেমনি সাহিত্যে সমাজের সামগ্রিক রূপ, মানুষের চিন্তা-ভাবনা, আনন্দ-বেদনা ও জীবনচিত্র যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়। তাই সাহিত্যকে বলা হয় সমাজের দর্পণ বা প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রসারিত ভাব: মানুষ সামাজিক জীব। তার ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন পরস্পর অবিচ্ছেদ্য। আর সাহিত্যিক যেহেতু সমাজেরই একজন সংবেদনশীল সদস্য, সেহেতু তাঁর সৃষ্টিতে সমকালের সমাজবাস্তবতা অনিবার্যভাবেই উঠে আসে। যুগে যুগে মানবসমাজের সুখ-দুঃখ, ন্যায়-অন্যায়, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনা সাহিত্যের পাতায় রূপ লাভ করে। যেকোনো যুগের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা সামাজিক আন্দোলনের চিত্র জানতে হলে সে যুগের সাহিত্য পাঠের বিকল্প নেই। প্রাচীন গ্রিক কিংবা রোমান সাহিত্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি তৎকালীন সমাজব্যবস্থা। তেমনি মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য বা আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যের মাধ্যমে তৎকালের বাঙালির জীবনসংগ্রাম ও মনস্তত্ত্ব সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের সাহিত্য পাঠ করলে তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষের সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিচয় পাওয়া যায়।
তবে সাহিত্য সমাজের নিছক যান্ত্রিক অনুলিপি নয়। সাহিত্যিক সমাজকে কেবল দেখেনই না, সমাজের দোষ-ত্রুটি চিহ্নিত করে সুন্দর ও কল্যাণের পথও নির্দেশ করেন। তিনি জীবনের অসঙ্গতিগুলোকে শিল্পিত রূপ দিয়ে মানুষকে আত্মসচেতন করে তোলেন। ফলে সাহিত্য যেমন বর্তমান সমাজের দলিল হিসেবে কাজ করে, তেমনি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও প্রদান করে।
মন্তব্য: পরিশেষে বলা যায়, সাহিত্য সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে ধারণ করে এবং সমাজের ভালো-মন্দ সাহিত্যের পাতায় অবিকল চিত্রিত হয়। তাই সমাজ ও সাহিত্যের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গি এবং সাহিত্য প্রকৃত অর্থেই সমাজের এক নিখুঁত দর্পণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও