যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

রাজু সেদিন পত্রিকা পড়ে জানতে পারল যে, চাঁদে যাওয়ার পূর্বে আরোহীদের বায়ু শূন্য ঘরে পরীক্ষা করা হয়। রাজুর বড় চাচা ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ করিম এই বিষয়ে বললেন, "বায়ু না থাকার কারণে চাঁদে শব্দ শোনা যায় না। বিজ্ঞানীরা গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে এই সত্যতা আবিষ্কার করেছেন।"

  1. ক)

    পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    অন্বয়ী পদ্ধতিকে কেন নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মোশারফ করিম কোন পদ্ধতির ইঙ্গিত করেছেন?

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি একটি পরীক্ষণের পদ্ধতি"- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে পরীক্ষনাত্মক পদ্ধতি পাঁচটি। যথা: অন্বয়ী, ব্যতিরেকী, যৌথ অন্বয়ী-ব্যতিরেকী, সহপরিবর্তন এবং পরিশেষ পদ্ধতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্বয়ী পদ্ধতিতে কোনো কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি না করে বাস্তব জগতে স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরীক্ষণ থেকেই দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্ত সংগ্রহ ও তুলনা করা হয়। প্রকৃতির উন্মুক্ত পরিবেশ থেকে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল বা অন্বয় খুঁজে বের করা হয় বলে অন্বয়ী পদ্ধতিকে মূলত 'নিরীক্ষণের পদ্ধতি' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মোশারফ করিমের বক্তব্য জন স্টুয়ার্ট মিল প্রবর্তিত পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' (Method of Difference)-কে নির্দেশ করে।

    ব্যতিরেকী পদ্ধতির সূত্রানুসারে—যদি একটি সদর্থক দৃষ্টান্ত (যেখানে ঘটনাটি উপস্থিত) এবং একটি নঞর্থক দৃষ্টান্ত (যেখানে ঘটনাটি অনুপস্থিত) পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং দেখা যায় যে উভয়ের মধ্যে কেবল একটি পরিস্থিতি ছাড়া আর সব দিক দিয়ে মিল রয়েছে, তবে সেই একক পরিস্থিতিটিই আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য বলে গণ্য হবে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বায়ু থাকলে শব্দ শোনা যায়, কিন্তু বায়ু না থাকলে শব্দ শোনা যায় না। অর্থাৎ, বায়ু উপস্থিত থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হয়, কিন্তু বায়ুর অনুপস্থিতিতে শব্দ শোনা যায় না। একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির এ তুলনা ব্যতিরেকী পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তোলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি', যা মূলত একটি পরীক্ষণের পদ্ধতি। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও উপাদান অপসারণ: ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে দুটি অবস্থার তুলনা করা হয়—একটি ঘটনার উপস্থিতি এবং অপরটি একই অবস্থায় ঘটনাটির অনুপস্থিতি। উদ্দীপকে যেমন বায়ুশূন্য কক্ষ তৈরি করে পরীক্ষা করা হয়েছে, যা কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বাস্তব প্রকৃতিতে সম্ভব নয়।

    ২. নিরীক্ষণের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ: নিরীক্ষণের মাধ্যমে কার্য ও কারণের মিশ্রণ থেকে কোনো একটি শর্তকে ইচ্ছামতো আলাদা করা যায় না। কিন্তু পরীক্ষণের মাধ্যমে পরীক্ষাগারে অন্য সব শর্ত স্থির রেখে একটি শর্ত বাদ দিয়ে ফলাফল দেখা সম্ভব, যা ব্যতিরেকী পদ্ধতির মূল ভিত্তি।

    ৩. সিদ্ধান্ত নিশ্চিতকরণ: নিরীক্ষণের অন্বয়ী পদ্ধতিতে বহুকারণবাদ বা অবান্তর ঘটনার সম্ভাবনা থেকে যায়। কিন্তু ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে পরীক্ষণের সুযোগ থাকায় একটি মাত্র উপাদানের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির ফলাফল স্পষ্টভাবে নির্ণয় করা যায়, যা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়।

    ৪. যুক্তিবিদ মিলের অভিমত: যুক্তিবিদ মিল স্বয়ং ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে 'পরীক্ষণের পদ্ধতি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ পরীক্ষাগার ছাড়া সাধারণ নিরীক্ষণে দুটি সর্বতোভাবে এক কিন্তু কেবল একটি বিষয়ে ভিন্ন এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত বায়ু সরিয়ে নিয়ে শব্দ পরীক্ষা করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ব্যতিরেকী পদ্ধতি একটি অনন্য পরীক্ষণের পদ্ধতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন