বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

10.1.

বাল্যবিবাহ নিরোধের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

10.2.

অথবা, 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন' বিষয়ক একটি খুদেগল্প লেখো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১০.১. বাল্যবিবাহ নিরোধের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সংলাপ:

স্থান: বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কক্ষ
চরিত্র: শিক্ষক (রহিম সাহেব) ও শিক্ষার্থী (আরিফ)

আরিফ: স্যার, আসসালামু আলাইকুম। ভেতরে আসতে পারি?
শিক্ষক: ওয়ালাইকুম আসসালাম। হ্যাঁ আরিফ, এসো। তোমাকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে, কী হয়েছে?
আরিফ: স্যার, আমাদের ক্লাসের এক মেধাবী ছাত্রী সালমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। ওর পরিবার ওকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ ওর বয়স এখনো মাত্র পনেরো বছর!
শিক্ষক: অত্যন্ত দুঃখজনক একটি বিষয়! সালমা তো অত্যন্ত সম্ভাবনাময়ী একজন ছাত্রী। এই বয়সে বিয়ে হলে তো তার পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।
আরিফ: স্যার, আমাদের দেশে তো বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ আইন রয়েছে, তবুও সমাজে এর এত প্রচলন কেন?
শিক্ষক: এর প্রধান কারণ হলো সচেতনতার অভাব, দারিদ্র্য এবং কন্যাশিশুদের বোঝা ভাবার মানসিকতা। অথচ বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। শারীরিকভাবে অপরিণত বয়সে বিয়ের ফলে মেয়েদের অপুষ্টি ও গর্ভধারণজনিত মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
আরিফ: স্যার, এতে কি দেশের সার্বিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয় না?
শিক্ষক: অবশ্যই! একটি দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদেরকে অশিক্ষিত ও গৃহবন্দি রেখে দেশ কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না। নেপোলিয়ন বলেছিলেন—'আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব।' বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের ব্যক্তি ও সামাজিক সম্ভাবনার বিকাশকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে।
আরিফ: স্যার, সালমার বিয়েটি বন্ধ করতে আমরা কী করতে পারি?
শিক্ষক: আমরা এখনই প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলব। এরপর সালমার অভিভাবকদের ডেকে বোঝাব। প্রয়োজন হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা প্রশাসন ও জাতীয় জরুরি সেবা (৯৯৯ বা ১০৯৮)-এর সহায়তা নিয়ে বিয়েটি বন্ধের ব্যবস্থা করব।
আরিফ: ধন্যবাদ স্যার। আমরা আমাদের স্কুলের পক্ষ থেকেও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার চেষ্টা করব।
শিক্ষক: খুব ভালো প্রস্তাব আরিফ। চলো, আমরা সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত সালমার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করি।


অথবা,

১০.২. 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন' বিষয়ক খুদেগল্প:

একই বৃন্তের কুসুম

মধুমতী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত ও ছায়াঘেরা গ্রাম শান্তিপুর। গ্রামটিতে হিন্দু, মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বহু যুগ ধরে। সেখানে ঈদের আনন্দ যেমন ছড়িয়ে পড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে, তেমনি দুর্গাপূজার মণ্ডপে গিয়ে মিষ্টিমুখ করে আনন্দ ভাগাভাগি করে গ্রামের মুসলিম তরুণরা।

গ্রামের দুই বাল্যবন্ধু আবির ও সৌরভ। শৈশব থেকেই তাদের বন্ধুত্ব অটুট। আবিরের বাবা রহিম চাচা আর সৌরভের বাবা রমেশবাবু ছিলেন একে অপরের পরম সুহৃদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি গুজবকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই উত্তাপের ছোঁয়া শান্তিপুর গ্রামের শান্ত পরিবেশেও কিছুটা সংশয়ের ছায়া ফেলতে শুরু করে।

এমন সময়ে এলো শারদীয় দুর্গাপূজা। গভীর রাতে হঠাৎ গ্রামের মন্দিরের পেছনে রাখা আলোকসজ্জার জেনারেটরে শর্টসার্কিট হয়ে আগুন লেগে যায়। দ্রুত সেই আগুন মণ্ডপের শামিয়ানার দিকে ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়। চারদিকে যখন চিৎকার ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে, তখন আবির ও তার বন্ধুদলের মুসলিম তরুণেরা এক মুহূর্তও ইতস্তত না করে বালতি, পানি ও বালি নিয়ে আগুনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের সাথে গ্রামের হিন্দু যুবকেরাও যোগ দেয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মণ্ডপ ও প্রতিমা রক্ষার মধ্য দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।

ধোঁয়ার মধ্যে আবিরকে বুকে জড়িয়ে ধরে রমেশবাবু চোখের জল ফেলে বললেন, "তোরা না থাকলে আজ সব পুড়ে ছাই হয়ে যেত বাবা!" আবির হেসে উত্তর দিল, "কাকা, বিপদে যে পাশে দাঁড়ায়, সেই তো প্রকৃত ভাই। আমাদের রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মাটির সম্পর্ক তো এক।"

পরদিন সকালে মণ্ডপের সামনে আয়োজন করা হলো সম্প্রীতি সভার। রহিম চাচা ও রমেশবাবু একে অপরের হাত ধরে বললেন—ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব আর মানবিকতার এই মেলবন্ধন সবার। শান্তিপুর গ্রামের বাতাসে আবার ভেসে বেড়াল ঐক্যের সুর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন