বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
1.
শিষ্টাচার।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিষ্টাচার
ভূমিকা:
মানবচরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো শিষ্টাচার। শিষ্টাচার মানুষের বাহ্যিক আচরণকে শোভন ও মার্জিত করে তোলে এবং অন্তরকে করে সুন্দর ও সংবেদনশীল। সমাজে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হলে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শ্রদ্ধাবোধের প্রয়োজন, যার মূলে রয়েছে শিষ্টাচার।
শিষ্টাচার কী:
'শিষ্ট' শব্দের অর্থ শান্ত, মার্জিত বা ভদ্র এবং 'আচার' শব্দের অর্থ আচরণ। সুতরাং শিষ্টাচার বলতে বোঝায় ভদ্র, মার্জিত ও শোভন আচরণ। সমাজের অন্য সদস্যদের প্রতি বিনয়ী, সদ্ব্যবহারপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল মনোভাব পোষণ করাই হলো শিষ্টাচার।
শিষ্টাচারের পরিধি:
শিষ্টাচারের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র—সর্বত্রই শিষ্টাচারের প্রকাশ আবশ্যক। গুরুজনকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা, সমবয়সীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা, অন্যের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া এবং কোনো পরিস্থিতিতেই উদ্ধত না হওয়াই শিষ্টাচারের লক্ষণ।
মানবজীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব:
শিষ্টাচার মানবজীবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। কেবল মেধা বা অর্থবিত্ত মানুষকে মহৎ করতে পারে না; শিষ্টাচারহীন ব্যক্তি বিদ্বান বা ধনী হলেও সমাজে ঘৃণিত হয়। মিষ্টভাষী ও শিষ্ট ব্যক্তি সহজেই সবার হৃদয় জয় করতে পারে। শিষ্টাচার পারস্পরিক সম্পর্কের তিক্ততা দূর করে প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে।
ছাত্রজীবনে শিষ্টাচার:
ছাত্রজীবনই মানবচরিত্র গঠনের উপযুক্ত সময়। এ বয়সে অর্জিত অভ্যাস ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিফলিত হয়। শিক্ষকদের প্রতি সম্মান, সহপাঠীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং বিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা শিক্ষার্থীদের প্রধান কর্তব্য। একজন বিনয়ী শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
উপসংহার:
শিষ্টাচার সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিমাপক। যে জাতি যত বেশি শিষ্ট ও মার্জিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে শিষ্টাচারের অনুশীলন করা একান্ত অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও