ব্যবসায় উদ্যোগ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

সফুরা বেগম লেখাপড়া শেষ করার পর একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ এবং কিছু পুঁজি সংগ্রহ করেন। তিনি একটি কৃষি খামার গড়ে তুলেন এবং সমস্যার সম্মুখীন হন। তাই আরো প্রশিক্ষণ এবং ঋণ সুবিধার জন্য দুটি বেসরকারি সংস্থার সাথে যুক্ত হন।।

  1. ক)

    NGO-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    নারী উদ্যোক্তা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সফুরা বেগম প্রথমে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "সফুরা বেগম দুটি বেসরকারি সংস্থার সাথে যুক্ত হন"-নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণে এই সংস্থাগুলোর অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    NGO-এর পূর্ণরূপ Non-Government Organization, অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থা।

  2. খ)

    যদি কোনো নারী ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হন, কিংবা অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অন্যূন ৫১% অংশের মালিক হন, তাহলে তিনি নারী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে গণ্য হন। সহজ কথায় যে নারী ঝুঁকি নিয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপন ও পরিচালনা করেন, তিনি নারী উদ্যোক্তা।

  3. গ)

    সফুরা বেগম প্রথমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে ধরা যায়।

    যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়, কৃষি খামার, গবাদি পশু পালন, মৎস্য চাষ ইত্যাদিতে প্রশিক্ষণ দেয়। প্রশিক্ষণের সাথে স্বল্প সুদে প্রারম্ভিক পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থাও করে। উদ্দীপকে সফুরা লেখাপড়া শেষে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ ও কিছু পুঁজি পেয়ে কৃষি খামার গড়েছেন। এই বৈশিষ্ট্য যুব অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    সফুরা বেগম আরও প্রশিক্ষণ ও ঋণের জন্য দুটি বেসরকারি সংস্থার সাথে যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে ব্র্যাক, প্রশিকা, টিএমএসএস ও মাইডাসের মতো বেসরকারি সংস্থা নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    ১. ব্র্যাক: ১৯৭২ সালে ফজলে হাসান আবেদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে। এটি কাপড় বুনন, হাঁস-মুরগি পালনসহ ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়নে সহায়তা করে এবং নিজস্ব বিপণিকেন্দ্র 'আড়ং'-এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে।
    ২. প্রশিকা: কৃষি, তাঁত শিল্প, হস্তশিল্প, গবাদি পশু পালন ও চারা উৎপাদনসহ নানা পেশায় উদ্যোক্তাদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ দেয়।
    ৩. টিএমএসএস: দরিদ্র ও বিত্তহীন মহিলাদের ঋণ, প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করে এবং হাঁস-মুরগির খামার, মাছ চাষ, নার্সারি ও কুটির শিল্প পরিচালনা করে।
    ৪. মাইডাস: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ, প্রশিক্ষণ, তথ্য ও বিপণনে সহায়তা করে।

    সুতরাং, ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বিপণন সহায়তার মাধ্যমে এই সংস্থাগুলো নারীদের স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করছে এবং সফুরার মতো নারীদের কৃষি খামারের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন