অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যারের বর্ষভিত্তিক রপ্তানি আয়ের লেখচিত্র (মিলিয়ন মার্কিন ডলারে):

- ক)(1)
বৈদেশিক অনুদান কী?
- খ)(2)
কীভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে?
- গ)(3)
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়ার শিল্পের বর্ষভিত্তিক রপ্তানি আয়ের তুলনামূলক আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক অনুযায়ী রপ্তানি আয়ের এ ধারা যথেষ্ট গতিশীল বলে কি তুমি মনে কর? যদি না হয় তবে কীভাবে তা গতিশীল করা যায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক অন্য দেশকে আর্থিক বা বস্তুগতভাবে কোনো প্রতিদান ছাড়াই সাহায্য হিসেবে যে অর্থ বা উপকরণ প্রদান করা হয়, তাকে বৈদেশিক অনুদান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের অসম বণ্টন, ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ুর ভিন্নতা, উৎপাদন ব্যয়ের পার্থক্য এবং শ্রমবিভাগের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। কোনো দেশের পক্ষেই তার চাহিদামাফিক সকল পণ্য কম খরচে নিজে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। ফলে প্রতিটি দেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক ও কম খরচে যেসব পণ্য উৎপাদন করতে পারে তা উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানি করে এবং যেসব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় দেশে বেশি তা অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। এই পারস্পরিক নির্ভরতা ও বিনিময় থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের স্তম্ভচিত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্ষভিত্তিক রপ্তানি আয়ের (মিলিয়ন মার্কিন ডলারে) একটি ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বমুখী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
লেখচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় ছিল অত্যন্ত নগণ্য, মাত্র ১৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরবর্তী দশকে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর পরবর্তী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় পৌঁছায় ৭৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তা উন্নীত হয় ১০৭০০ মিলিয়ন ডলারে।
২০০৯-১০ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ বেড়ে হয় ১২৪৯০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০৯০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই আয় দাঁড়ায় ২১৫০০ মিলিয়ন ডলার এবং সর্বশেষ প্রদর্শিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা সর্বোচ্চ ২৪৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, বিগত চার দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাত থেকে রপ্তানি আয় ক্রমাগত এবং উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সার্বিক রপ্তানি আয় বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাতের রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিযোগিতা এবং বাংলাদেশের বিপুল অর্থনৈতিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে এ ধারাকে সম্পূর্ণভাবে যথেষ্ট গতিশীল বলা যায় না।
কারণ হিসেবে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত স্বল্পমূল্যের সাধারণ পোশাকের ওপর নির্ভরশীল এবং বাজারের পরিসরও কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের (যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বা নীতিগত পরিবর্তনে এ খাত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
রপ্তানি আয়ের এই ধারাকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক:
১. পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ: শুধু সাধারণ সুতি কাপড়ের পোশাকের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের ফ্যাশনেবল পোশাক এবং কৃত্রিম আঁশের (ম্যান-মেড ফাইবার) পোশাক উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়া।
২. নতুন বাজার অনুসন্ধান: প্রচলিত ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের বাইরে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো নতুন বাজারে প্রবেশ করা।
৩. প্রযুক্তি ও দক্ষতার উন্নয়ন: কারখানায় আধুনিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা।
৪. ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালীকরণ: সুতা, কাপড় ও বোতামসহ প্রাথমিক কাঁচামালের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানি নির্ভরতা কমানো।
৫. অবকাঠামো ও বন্দর সুবিধা: চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে 'লিড টাইম' হ্রাস করা।অতএব, নীতিগত সহায়তা এবং আধুনিকায়নের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও