‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ব্রিটিশ ভারতের X প্রদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা বিশাল। একজন প্রশাসকের একার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে শাসন কার্য পরিচালনা করা ছিল অসম্ভব। ফলে কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন কারণে দেখিয়ে উত্তর প্রদেশ থেকে দুটি আলাদা প্রদেশ বিভক্ত করে দুজন প্রশাসক নিয়োগ করেন।

  1. ক)

    সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    স্বদেশী আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত পাঠ্য বইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়া আর কী কী কারণ আছে বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বদেশী আন্দোলন বলতে বোঝায় ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করে নিজেদের বা দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত এক ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতারা ব্রিটিশ পণ্যের ওপর বয়কট জারি করেন এবং তার বিপরীতে দেশের তৈরি বস্ত্র, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রতি জোর দেন। এটি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক অহিংস অথচ তীব্র অর্থনৈতিক প্রতিরোধ আন্দোলন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' (বা বাংলা বিভাজন)-এর মিল রয়েছে।

    তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন ছিল প্রায় ১,৮৯,০০০ বর্গমাইল এবং এর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ। ফলে একজন ছোটলাটের (লেফটেন্যান্ট গভর্নর) পক্ষে এত বিশাল অঞ্চল ও বিপুল জনসংখ্যার সুষ্ঠু শাসন পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছিল। এই প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার লক্ষ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি আলাদা প্রদেশ গঠন করেন এবং দুজন প্রশাসক নিযুক্ত করেন।

    উদ্দীপকের 'X' প্রদেশের বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যা, একজন প্রশাসকের পক্ষে শাসনকার্যের জটিলতা এবং শেষ পর্যন্ত দুটি আলাদা প্রদেশে বিভক্ত করে দুজন প্রশাসক নিয়োগের ঘটনাটি হুবহু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে মূলত অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ভৌগোলিক কারণ বিদ্যমান ছিল বলে আমি মনে করি। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অর্থনৈতিক কারণ: তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিকাশ মূলত কলকাতাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। পূর্ববঙ্গের বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল (যেমন- পাট) কলকাতায় রপ্তানি হলেও পূর্ববঙ্গের কৃষক ও জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হতো না। ফলে পূর্ববঙ্গের জনগণ তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল। পৃথক প্রদেশ গঠিত হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ দ্রুত হবে—এই বিবেচনায়ও বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়েছিল।

    ২. সামাজিক ও ধর্মীয় বৈষম্য: তৎকালীন সময়ে পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ছিল মুসলিম, যাদের আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষাগত অবস্থা অত্যন্ত পশ্চাৎপদ ছিল। কলকাতার অভিজাত হিন্দু শ্রেণি শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল। ফলে পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়ন এবং ঢাকায় কেন্দ্র স্থাপন করে তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সামাজিক প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।

    ৩. ভৌগোলিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট: পূর্ববঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল, নদ-নদী বিধৌত এলাকা এবং আসামের সাথে রাজধানী কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত অনুন্নত ও জটিল। ফলে দূরবর্তী অঞ্চলগুলোর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুষম প্রশাসনিক সেবা প্রদান করা সম্ভব হতো না। ভৌগোলিক সান্নিধ্য ও সুবিধাজনক শাসনের জন্য ঢাকাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশাসনিক বলয় তৈরি করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    সুতরাং, প্রশাসনিক ও ব্রিটিশদের বিভাজন ও শাসন নীতির (রাজনৈতিক উদ্দেশ্য) পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং ভৌগোলিক সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোও বঙ্গভঙ্গের অন্যতম প্রধান নিয়ামক ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন