অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে জিনিসপত্রের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ভার। ফলশ্রুতিতে ভূমিহীন কৃষক, বেকার, গরিব জনসাধারণ ও সীমিত আয়ের লোকদের জীবনযাত্রা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কী?
- খ)(2)
অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি অর্থনীতির কোন বিষয়কে নির্দেশ করে- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে আয় ও সম্পদ বণ্টনের উপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কীরূপ হবে- আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ভিত্তি বছরের তুলনায় চলতি বছরে চলকের (যেমন- পণ্যের মূল্যস্তর) আপেক্ষিক পরিবর্তনের পরিমাপক সংখ্যাত্মক মানকে সূচক সংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ অর্থের যোগান বাড়লে মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা বা ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে দ্রব্যের যোগান বা উৎপাদন তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ানো সম্ভব না হলে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে দ্রব্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ হলে মূল্যস্তরও দ্বিগুণ হয়, অর্থাৎ অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি অর্থনীতির 'মুদ্রাস্ফীতি' (Inflation) ধারণাকে নির্দেশ করে।
সাধারণত কোনো দেশে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বা উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্যের সাধারণ মূল্যস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকলে এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেলে তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে সরকারের ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে সমাজে অর্থের সরবরাহ ও মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা বেড়েছে, যা পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় একই সাথে জিনিসপত্রের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সামগ্রিক মূল্যস্তরের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিই মুদ্রাস্ফীতিকে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে আয় ও সম্পদ বণ্টনের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সমাজে বৈষম্য তৈরি করে। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে ধনী ও উদ্যোক্তা শ্রেণি লাভবান হলেও সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১. সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের লোকদের ওপর প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির ফলে জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও সীমিত আয়ের চাকরিজীবী ও দিনমজুরদের আয় সে অনুপাতে বাড়ে না। ফলে তাঁদের প্রকৃত আয় হ্রাস পায় এবং জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যায়।
২. কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব: উদ্দীপকে উল্লেখিত ভূমিহীন কৃষক, বেকার ও গরিব জনসাধারণ উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার নির্বাহ করা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।
৩. ব্যবসায়ী ও উৎপাদক শ্রেণির লাভ: মুদ্রাস্ফীতির সময়ে পণ্যের বিক্রয়মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে দ্রুত বাড়ে, ফলে ব্যবসায়ী, মুনাফাভোগী ও উৎপাদনকারীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে ধনী থেকে আরও ধনী হয়।
৪. ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতার ওপর প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির কারণে ঋণগ্রহীতারা লাভবান হয় কারণ তারা যে অর্থের মান ফেরত দেয় তার ক্রয়ক্ষমতা কম থাকে, পক্ষান্তরে নির্দিষ্ট সুদে ঋণদানকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।অতএব, উদ্দীপকের মুদ্রাস্ফীতিমূলক পরিস্থিতি সমাজে আয় ও সম্পদের পুনর্বণ্টনে তীব্র অসমতা ও বৈষম্য সৃষ্টি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও