গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
১৩ বছর বয়সী আদি নিয়মিত স্কুলে যেত এবং পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী ছিল। কিন্তু কয়েকদিন যাবৎ সে স্কুলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন বয়সের ছেলেদের সাথে মেলামেশা করে। সে যথাসময়ে স্কুলে না গিয়ে রাস্তায় ঘোরাফেরা এবং ধূমপান করে। অপরদিকে ১৪ বছর বয়সী আদির খালাতো বোন রেবার বাবা-মা উভয়ই চাকরিজীবী। বাড়িতে সে প্রায়ই একা থাকে। তার মা লক্ষ করলেন, সে সামান্য কথায় রেগে যায় এবং রাতে একা একা পায়চারি করে। তার বাবা-মা ডাক্তারের পরামর্শ নিলে ডাক্তার তাদের মেয়েকে পর্যাপ্ত সময় দিতে বলেন।
- ক)(1)
বহির্মুখী মনোসামাজিক সমস্যা কী?
- খ)(2)
বিষণ্ণতা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
আদির আচরণের পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রেবার মধ্যে সংঘটিত সমস্যা স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটায়— কথাটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে মনোসামাজিক সমস্যায় ব্যক্তি তার অনুভূতি ও আবেগ আচরণের মাধ্যমে বাইরে প্রকাশ করে এবং যা অন্যের বা সমাজের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে, তাকে বহির্মুখী মনোসামাজিক সমস্যা বলে; যেমন মারামারি, চুরি, ধূমপান ও অবাধ্যতা।
- খ)
বিষণ্ণতা হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে মনমরা ও হতাশ থাকে। এতে কাজে আগ্রহ হারিয়ে যায়, একা থাকতে ভালো লাগে এবং ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসে। সামান্য বিষয়ে রেগে যাওয়া বা কান্না পাওয়াও এর লক্ষণ। এটি একটি অন্তর্মুখী মনোসামাজিক সমস্যা।
- গ)
১৩ বছর বয়সী আদি বয়ঃসন্ধিকালে রয়েছে। তার আচরণ পরিবর্তনের কারণগুলো হলো:
১. কুসঙ্গ: স্কুলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন বয়সের ছেলেদের সাথে মেশার ফলে তাদের প্রভাবে সে ধূমপান ও রাস্তায় ঘোরাফেরায় জড়িয়েছে।
২. বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্য: এ বয়সে কৌতূহল, নতুন কিছু করার ইচ্ছা, বড়দের মতো আচরণ করার প্রবণতা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বেশি থাকে।
৩. তদারকির অভাব: অভিভাবকের যথেষ্ট খোঁজখবর ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বাড়ে।
- ঘ)
আমি এ কথার সাথে একমত। রেবা ১৪ বছর বয়সী কিশোরী; তার আচরণে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মতো অন্তর্মুখী সমস্যার লক্ষণ রয়েছে।
১. কারণ: বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী হওয়ায় রেবা বাড়িতে প্রায়ই একা থাকে। ভালোবাসা ও মনোযোগের অভাবে তার মধ্যে একাকিত্ব তৈরি হয়েছে।
২. লক্ষণ: সামান্য কথায় রেগে যাওয়া ও রাতে একা পায়চারি করা মানসিক অস্থিরতা ও ঘুমের সমস্যা নির্দেশ করে।
৩. প্রভাব: এতে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে, সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হয়, খাওয়া-ঘুমের নিয়ম বিঘ্নিত হয় এবং স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে যায়। সময়মতো সমাধান না হলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
সুতরাং, রেবার সমস্যা তার স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটাচ্ছে। বাবা-মা পর্যাপ্ত সময় দিলে ও মন খুলে কথা বললে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও