বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মিসক্রিয়ান্ট শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'মনে হচ্ছে যেন বৃষ্টি পড়ছে রেইনকোর্টের উপর' উক্তিটি দ্বারা লেখক কী - বোঝাতে চেয়েছেন?
- গ)(3)
চিত্রে 'রেইনকোট' গল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখা করো।
- ঘ)(4)
চিত্রিত দিকটি 'রেইনকোট' গল্পের বিষয়বস্তুকে আরও শানিত করেছে বলে তুমি মনে করো কি? সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মিসক্রিয়েন্ট' (Miscreant) শব্দের অর্থ দুষ্কৃতকারী বা বদমাশ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা মুক্তিযোদ্ধাদের বোঝাতে এ শব্দটি ব্যবহার করত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম চাবুকের আঘাতকে নুরুল হুদার কাছে তুচ্ছ ও সহনীয় মনে হওয়ার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পে মিলিটারিরা নুরুল হুদাকে ঝুলিয়ে বেদম প্রহার করে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার প্রতীকী রূপ রেইনকোট গায়ে থাকায় তাঁর মধ্যে এক ধরনের দেশপ্রেম ও সাহস জাগ্রত হয়। ফলে শরীরের ওপর নির্মম চাবুকের আঘাত নেমে এলেও তাঁর মনে হচ্ছিল যেন তা কোনো আঘাত নয়, রেইনকোটের ওপর সাধারণ বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ার মতো মামুলি ব্যাপার। শারীরিক যন্ত্রণা তাঁর চেতনা ও দেশপ্রেমের দৃঢ়তাকে ভাঙতে পারেনি বলেই লেখক এ কথা বুঝিয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম ও বর্বর নির্যাতনের দিকটি ফুটে উঠেছে, যা 'রেইনকোট' গল্পের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালি ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর নির্মম নিপীড়ন চালাত। কলেজের সামনে গেরিলা আক্রমণের পর পাকিস্তানি সেনারা কলেজের শিক্ষকদের ধরে নিয়ে যায় এবং বিশেষ করে নুরুল হুদাকে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য বের করার চেষ্টা করে। তাঁকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে চাবুক ও বেল্ট দিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হয়।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানি সেনারা অস্ত্রহাতে নিরীহ মানুষকে মাটিতে ফেলে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও পাশবিকভাবে মারধর ও নির্যাতন করছে। চিত্রে ফুটে ওঠা এই হিংস্রতা ও মানবিকতাবিরোধী নির্যাতন 'রেইনকোট' গল্পে পাকিস্তানি মিলিটারি কর্তৃক নুরুল হুদার ওপর চালানো বর্বর নির্যাতনের চিত্রকেই সরাসরি প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি চিত্রিত দিকটি 'রেইনকোট' গল্পের মূল বিষয়বস্তুকে আরও শানিত করেছে।
'রেইনকোট' গল্পের মূল বিষয় শুধু পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচার নয়, বরং চরম নির্যাতনের মুখে সাধারণ ও ভিতু প্রকৃতির এক মানুষের দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার চেতনায় রূপান্তরিত হওয়া। শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে জড়িয়ে নুরুল হুদার ভেতর যে অদৃশ্য শক্তি ও আত্মমর্যাদাবোধের সঞ্চার হয়েছিল, তা বর্বরতম নির্যাতনের মুখেও অটল থাকে।
উদ্দীপকের চিত্রে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম অত্যাচার ও পাশবিক নিপীড়নের রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। এ ধরনের নৃশংস চিত্র দেখলে সাধারণ মানুষের আতঙ্কের মাত্রা বোঝা যায়। গল্পেও নুরুল হুদা ছিলেন একজন ভিতু স্বভাবের সাধারণ শিক্ষক। কিন্তু উদ্দীপকের মতো নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা প্রকাশ করেননি। বরং চাবুকের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হতে হতে তিনি নিজের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করেন। শত্রুর নিষ্ঠুর নির্যাতন যত তীব্র হয়েছে, নুরুল হুদার মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ ও দেশপ্রেম ততটাই উজ্জ্বল ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সুতরাং, চিত্রে প্রদর্শিত দখলদার বাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনের প্রেক্ষাপটই 'রেইনকোট' গল্পের মূল বক্তব্য—বাঙালির অবদমিত দেশপ্রেম, মানসিক রূপান্তর ও অদম্য প্রতিরোধ চেতনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছে এবং বিষয়বস্তুকে আরও শানিত করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও