পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: 'ক' রাষ্ট্রটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা লাভের পর একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি নানান দিক পর্যালোচনার পর সে দেশের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে।দৃশ্যকল্প-২: 'খ' দেশের সংবিধান লিখিত ও স্পষ্ট। এখানে নাগরিক অধিকার স্বীকৃত। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো নীতিমালা রয়েছে এবং সংশোধনী পদ্ধতি নমনীয়।

  1. ক)

    সংবিধান সংক্রান্ত এরিস্টটলের মন্তব্যটি লেখো।

    (1)
  2. খ)

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ উল্লেখিত 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানটি প্রণয়নে কোন পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লেখিত 'খ' রাষ্ট্রের সংবিধান বাংলাদেশের সংবিধানের অনুরূপ"-উক্তিটির যৌক্তিকতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সংবিধান সম্পর্কে এরিস্টটলের মন্তব্য হলো, "সংবিধান হলো রাষ্ট্রের জীবনযাপনের পদ্ধতি।"

  2. খ)

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় আইন ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব ছাড়া বিচারকদের নিরপেক্ষভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করা। এর ফলে বিচারকরা কোনো ভয়, চাপ বা প্রলোভন ছাড়া কেবল আইন ও বিবেক অনুযায়ী রায় দিতে পারেন। এটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ 'ক' রাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভের পর একটি কমিটি গঠন করে এবং সেই কমিটি পর্যালোচনা করে সংবিধান প্রণয়ন করেছে। এটি কমিটি বা গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে প্রণয়ন পদ্ধতি।

    ব্যাখ্যা: এই পদ্ধতিতে জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয় এবং পরিষদ সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। কমিটি বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে খসড়া তৈরি করে। পরে পরিষদে আলোচনার পর তা গৃহীত ও কার্যকর হয়। বাংলাদেশের সংবিধানও স্বাধীনতার পর এভাবেই প্রণীত হয়েছে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর 'খ' রাষ্ট্রের সংবিধান লিখিত ও স্পষ্ট, নাগরিক অধিকার স্বীকৃত, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা আছে এবং সংশোধনী পদ্ধতি নমনীয়। এর প্রথম তিনটি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে মেলে, কিন্তু সংশোধনী পদ্ধতিতে মেলে না। তাই উক্তিটি আংশিক যৌক্তিক।

    ১. লিখিত ও স্পষ্ট: বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল, যাতে রাষ্ট্রের কাঠামো ও ক্ষমতা সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।
    ২. নাগরিক অধিকার: বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত।
    ৩. নীতিমালা: বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি আছে।
    ৪. অমিল: বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হওয়ায় তা দুষ্পরিবর্তনীয়। কিন্তু 'খ'-এর সংশোধনী পদ্ধতি নমনীয়।

    সুতরাং, সংশোধন পদ্ধতি ছাড়া অন্য বৈশিষ্ট্যে মিল থাকলেও পুরোপুরি অনুরূপ নয়; উক্তিটি আংশিক যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন