যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    শব্দগত অর্থে যুক্তিবিদ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নে কী হবে? এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে চারজন যুক্তিবিদের মধ্যে এরিস্টটলের সাথে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত বিষয়টির সম্পর্ক গভীর কেন? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শব্দগত অর্থে যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। ইংরেজি 'Logic' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'Logike' থেকে এসেছে, যা আবার গ্রিক শব্দ 'Logos' এর বিশেষণ। 'Logos' শব্দের অর্থ চিন্তা বা ভাষা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট আদর্শকে সামনে রেখে সত্য অর্জন ও মিথ্যাকে বর্জনের নিয়মাবলি প্রণয়ন করে। যুক্তিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো সত্যের আবিষ্কার। এটি বস্তু বা ঘটনার কেবল বর্ণনাই দেয় না, বরং যুক্তিপদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত—তার মানদণ্ড বা আদর্শ নির্ধারণ করে বিচার করে। তাই যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নে বসবে 'যুক্তিবিদ্যা'।

    এর স্বরূপ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    যুক্তিবিদ্যা হলো বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি ও নীতিসমূহের একটি সুশৃঙ্খল অধ্যয়ন। এর স্বরূপের প্রধান দিকগুলো হলো:
    ১. বিজ্ঞান ও কলা হিসেবে স্বরূপ: যুক্তিবিদ্যা কেবল চিন্তার নিয়মাবলি বা তাত্ত্বিক জ্ঞানই দেয় না, বরং সেই নিয়মগুলোকে বাস্তব চিন্তায় প্রয়োগ করার কৌশলও শেখায়। তাই এটি একই সাথে বিজ্ঞান ও কলা।
    ২. আদর্শনিষ্ঠ স্বরূপ: যুক্তিবিদ্যা সত্যের অনুসন্ধান করে এবং একটি নির্দিষ্ট আদর্শ (সত্য অর্জন ও মিথ্যা পরিহার) অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
    ৩. রূপগত ও বস্তুগত সত্যতার বিচার: যুক্তিবিদ্যা যুক্তির আকারগত শুদ্ধতার পাশাপাশি সিদ্ধান্তের বস্তুগত সত্যতাও আলোচনা করে। এরিস্টটল, জে. এস. মিল, যোসেফ ও আই. এম. কপি প্রত্যেকেই যুক্তিবিদ্যার এই স্বরূপকে কেন্দ্র করে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চারজন যুক্তিবিদের (এরিস্টটল, জে. এস. মিল, যোসেফ এবং আই. এম. কপি) মধ্যে এরিস্টটলের সাথে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত বিষয় অর্থাৎ 'যুক্তিবিদ্যা'র সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর, কারণ তিনি যুক্তিবিদ্যার জনক।

    এরিস্টটলের সাথে যুক্তিবিদ্যার গভীর সম্পর্কের কারণসমূহ:
    ১. ভিত্তি স্থাপন: খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে এরিস্টটলই সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যাকে জ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র ও সুসংবদ্ধ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পূর্বে যুক্তির কিছু ধারণা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও কোনো বিধিবদ্ধ রূপ ছিল না।
    ২. অর্গানন (Organon): এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ক ছয়টি মৌলিক গ্রন্থকে একত্রে 'অর্গানন' বা চিন্তার হাতিয়ার বলা হয়। এই গ্রন্থগুলোর মাধ্যমেই অবরোহ যুক্তিবিদ্যার পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি রচিত হয়।
    ৩. সহানুমান ও যুক্তির আকার: এরিস্টটলের প্রধান অবদান হলো তাঁর সহানুমান (Syllogism) তত্ত্ব এবং যুক্তির আকারগত রূপ বিশ্লেষণ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সহানুমানের নিয়মগুলো যুক্তিবিদ্যার ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক।
    ৪. পরবর্তী চিন্তাবিদদের পথপ্রদর্শক: উদ্দীপকে উল্লিখিত অন্যান্য যুক্তিবিদ যেমন জে. এস. মিল (যিনি আরোহ যুক্তিবিদ্যায় অবদান রেখেছেন), যোসেফ বা আই. এম. কপি (যাঁরা আধুনিক যুক্তিবিদ্যার ব্যাখ্যা দিয়েছেন)—তাঁদের প্রত্যেকের ভিত্তি ছিল এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যার ধারণা।

    সুতরাং, যুক্তিবিদ্যার উৎপত্তি, প্রাথমিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং মৌলিক নিয়মাবলি প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখার কারণে এরিস্টটলের সাথে যুক্তিবিদ্যার সম্পর্কটি সর্বাধিক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন