বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রমিতা ভালো গান করে সকল পর্যায়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। তাকে নিয়ে তার পরিবারের অনেক গর্ব। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় বাশক্তি হারিয়ে ফেলে সে। গান গাওয়া বন্ধ হয়ে যায় প্রমিতার। এক সময় যারা তার বন্ধু ছিল তারা একে একে কেটে পড়ে। আজ তার পাশে, কেউ নেই। সেও ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, সবার থেকে চোখের আড়াল হয়ে একাতিত্বকে সঙ্গী করে দিন কাটে তার।
- ক)(1)
প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত কেন?
- খ)(2)
সুভাকে সুভার মা বিধাতার অভিশাপ মনে করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রমিতার নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সুভার মানসিক্তার কোন দিক প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রমিতা ও সুভার প্রতি পরিজনদের আচরণ কীরূপ হলে তাদের জীবনের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত? যৌক্তিক মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- খ)
সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। তার মা মনে করে, মেয়েটি তাদের কোনো পাপ বা ত্রুটির ফল, যেন বিধাতা তাদের শাস্তি দিতে এমন সন্তান দিয়েছেন। সমাজে বাকশক্তিহীন মেয়েকে বোঝা ও দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে দেখা হয়, বিশেষ করে তার বিয়ে নিয়ে মায়ের উদ্বেগ আছে। তাই সুভাকে মা নিজের জন্য বিধাতার অভিশাপ বলে ভাবে।
- গ)
উদ্দীপকের প্রমিতার নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সুভার অন্তর্মুখিতা, একাকিত্ব ও আত্মগোপনের প্রবণতা প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: সুভা কথা বলতে পারে না। তাই সে মানুষের কাছ থেকে দূরে থেকে নীরবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটায়। সবার অবহেলা ও উপেক্ষায় সে নিজের ভেতরে গুটিয়ে যায়। উদ্দীপকে প্রমিতা বাকশক্তি হারানোর পর বন্ধুদের দূরে সরে যাওয়ায় একা হয়ে পড়ে এবং নিজেকে সবার চোখের আড়ালে সরিয়ে নেয়। দুজনের ক্ষেত্রেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও সামাজিক অবহেলা তাদের একাকিত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
- ঘ)
প্রমিতা ও সুভার প্রতি পরিজনদের আচরণ সহানুভূতিশীল, সহমর্মী ও আন্তরিক হলে তাদের জীবনের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।
১. সহানুভূতি ও গ্রহণযোগ্যতা: সুভার বাবা-মা তাকে বোঝা বা অভিশাপ না ভেবে স্নেহ ও মর্যাদা দিলে সে নিজের ভেতরে গুটিয়ে যেত না। প্রমিতার বন্ধু ও পরিবার তার দুর্দিনে পাশে থাকলে সে একা হয়ে পড়ত না।
২. মানসিক সমর্থন: প্রতিবন্ধকতা কোনো দোষ নয়, এমন বোধ থেকে পরিজনরা তাদের পাশে দাঁড়ালে তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেত।
৩. সুযোগ সৃষ্টি: প্রমিতাকে গান ছাড়া অন্য সৃজনশীল কাজে এবং সুভাকে ইশারা বা অন্য উপায়ে নিজের ভাব প্রকাশে উৎসাহ দিলে তাদের জীবন অর্থবহ হতো।সুতরাং, পরিজনদের ভালোবাসা ও সহমর্মিতা পেলে তাদের একাকিত্ব ও কষ্টের পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও