বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
5.
দুর্নীতি: কারণ ও প্রতিকার।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুর্নীতি: কারণ ও প্রতিকার
ভূমিকা:
বর্তমান বিশ্বে যেকোনো দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। নীতিভ্রষ্টতা, অনিয়ম ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার অশুভ প্রবণতা সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়। বাংলাদেশেও দুর্নীতি জাতীয় উন্নয়নের গতিকে শ্লথ করছে এবং সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করছে। তাই সমৃদ্ধ ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য দুর্নীতির কারণ উদ্ঘাটন এবং এর কার্যকর প্রতিকার অপরিহার্য।
দুর্নীতি কী:
সাধারণ অর্থে নীতিহীন কাজ বা নীতিবিরুদ্ধ আচরণই দুর্নীতি। বৃহত্তর অর্থে, ব্যক্তি বা সমষ্টি কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা ও দায়িত্বের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ হাসিল করাকে দুর্নীতি বলে। ঘুষ গ্রহণ, অর্থ পাচার, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং দায়িত্বে অবহেলা সবই দুর্নীতির রূপ।
দুর্নীতির কারণ:
১. নৈতিক অবক্ষয়: ব্যক্তিস্বার্থ, অতি লোভ ও নৈতিক মূল্যবোধের অভাব দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ।
২. দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় সীমিত আয়ের কারণে অনেকে অনৈতিক পথ বেছে নেয়।
৩. আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব: দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে।
৪. জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি: প্রশাসনিক স্তরে কার্যকর জবাবদিহি ও নজরদারির অভাব দুর্নীতির বিস্তার ঘটায়।
৫. রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও স্বজনপ্রীতি: রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতির একটি বড় ক্ষেত্র।
দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব:
দুর্নীতির ফলে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ জনগণ মৌলিক অধিকার ও সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এটি ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ধ্বংস করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়।
দুর্নীতি প্রতিকারের উপায়:
১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২. স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার: সরকারি সেবা ডিজিটালাইজড (ই-গভর্ন্যান্স) করার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ও ঘুষ লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
৩. নৈতিক শিক্ষার প্রসার: পরিবার, বিদ্যালয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে নীতি ও সততার শিক্ষা দিতে হবে।
৪. সামাজিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে।
উপসংহার:
একটি শোষণহীন, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি গঠনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সরকার ও জনগণ একসঙ্গে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে সমাজ থেকে দুর্নীতির মতো ব্যাধি নির্মূল করে সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও