ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

হামজার বিশ্বাস, মানুষের জন্ম-মৃত্যু একটি প্রাকৃতিক নিয়ম। এতে বিশেষ কারো হাত নেই। তাই তিনি দায়িত্বশীল জীবনযাপন না করে মনগড়া জীবনযাপন করেন। তার বড় ভাই আব্দুর রহমান বলেন, তোমার বিশ্বাস ও কর্মের সংশোধন কর। অন্যদিকে আশিক একজন মুসলিম পরিবারের সন্তান। একদিন সে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। আসরের আযান হলে বন্ধুরা সবাই মসজিদে গেলেও আশিক মাঠে খেলাধুলায় লিপ্ত থাকে। নামাজ শেষে বন্ধুরা বলল, তুমি নামাজে গেলে না কেন? উত্তরে সে বলল, নামাজ পড়ে সময় নষ্ট করে লাভ কী? এ কথা শুনে তার বন্ধু আমির বলল, “যারা এরূপ কথা বলে পরকালে তাদেরকে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে।”

  1. ক)

    ইমান কী?

    (1)
  2. খ)

    আমরা তাকদিরে বিশ্বাস করব কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    হামজার কর্মকাণ্ডে আকাইদের কোন বিষয়টি লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    আশিকের কর্মকাণ্ডটি আকাইদের আলোকে চিহ্নিতপূর্বক আমিরের উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ইমান অর্থ বিশ্বাস; ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, মুখে স্বীকৃতি ও কাজে বাস্তবায়ন করাকে ইমান বলে।

  2. খ)

    তকদির আল্লাহ কর্তৃক ভালো-মন্দের পূর্বনির্ধারণ, যা ইমানের একটি অংশ। তকদিরে বিশ্বাস না থাকলে ইমান পূর্ণ হয় না। এ বিশ্বাস মানুষকে বিপদে ধৈর্যশীল ও সুখে কৃতজ্ঞ রাখে, হতাশা থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল করে। তাই আমরা তকদিরে বিশ্বাস করব।

  3. গ)

    হামজার কর্মকাণ্ডে তকদির-এ বিশ্বাসের বিষয়টি লঙ্ঘিত হয়েছে।

    ব্যাখ্যা:
    ১. তকদির অর্থ নির্ধারণ। জীবন, মৃত্যু, রিজিক সবই আল্লাহর নির্ধারিত।
    ২. হামজা জন্ম-মৃত্যুকে "প্রাকৃতিক নিয়ম" বলে আল্লাহর ভূমিকা অস্বীকার করেছেন। এটি তকদিরে বিশ্বাসের পরিপন্থী।
    ৩. তকদিরে বিশ্বাস মানে কর্মবিমুখ হওয়া নয়। মানুষকে ভালো কাজের স্বাধীনতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু হামজা দায়িত্বহীন, মনগড়া জীবনযাপন করেন।

    তাই তাঁর বিশ্বাস ও কর্ম উভয়ই সংশোধনযোগ্য।

  4. ঘ)

    আশিকের কর্মকাণ্ড আকাইদের আলোকে কুফরের অন্তর্ভুক্ত।

    চিহ্নিতকরণ: আশিক আযান শুনেও সালাতে যায়নি এবং সালাতকে "সময় নষ্ট" বলে তুচ্ছ করেছে। সালাত ফরয ইবাদত। একে তুচ্ছজ্ঞান করা ও অস্বীকার করা কুফর।

    আমিরের উক্তির যথার্থতা:
    ১. আল্লাহ বলেন, সালাত আদায়কারীদের মধ্যে যারা সালাত সম্পর্কে উদাসীন, তাদের জন্য ধ্বংস (সূরা মাউন: ৪-৫)।
    ২. কুফর ও ইসলামের বিধান অস্বীকারকারীদের জন্য আখিরাতে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
    ৩. সালাত ত্যাগ ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে দেয়।

    সুতরাং, আমিরের উক্তি যথার্থ। আশিকের উচিত তওবা করে নিয়মিত সালাত আদায় করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন