যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৫শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করন। নজরুল ছিলেন 'বিচক্ষণ' ও 'হাস্যপ্রিয়'।
- ক)(1)
বিধেয়ক কী?
- খ)(2)
কোন ধরনের যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক সম্ভব নয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কবির জন্মতারিখ দ্বারা পাঠ্যবইয়ের কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ বাক্যে বর্ণিত গুণগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক থাকে, তাকে বিধেয়ক (Predicable) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নঞর্থক যুক্তিবাক্য এবং বিশিষ্ট যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক সম্ভব নয়।
বিধেয়ক কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে অস্বীকার বা বিচ্ছিন্ন করা হয়, ফলে তাদের মধ্যে কোনো ইতিবাচক সম্বন্ধ স্থাপিত হয় না। আবার, বিশিষ্ট পদ কোনো জাতি বা উপজাতি গঠন করতে পারে না বলে বিশিষ্ট যুক্তিবাক্যেও বিধেয়কের পাঁচ প্রকার সম্বন্ধ (জাতি, উপজাতি, লক্ষণ, উপলক্ষণ, অবান্তর লক্ষণ) প্রযোজ্য হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কবির জন্মতারিখ দ্বারা পাঠ্যবইয়ের বিধেয়কের প্রকারভেদের অন্তর্গত 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' (Inseparable Accidental Predicable)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
যে গুণ কোনো পদের বা ব্যক্তির যাত্যর্থের অংশ নয়, অথচ ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে কখনোই বিচ্ছিন্ন বা পরিবর্তিত করা সম্ভব নয়, তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ ও জন্মস্থান এমন একটি গুণ যা ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য মৌলিক সত্তা না হলেও তা ব্যক্তির জীবন থেকে কখনো পৃথক বা পরিবর্তন করা যায় না। উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১৮৯৯ সালের ২৫শে মে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণের তথ্যটি তাঁর ব্যক্তিত্বের সাথে আজীবন অবিচ্ছেদ্য, যা ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণের উৎকৃষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ বাক্যে বর্ণিত গুণগুলো হলো 'বিচক্ষণ' ও 'হাস্যপ্রিয়'। যুক্তিবিদ্যার আলোকে গুণগুলোর আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদের একটি 'উপলক্ষণ' এবং অপরটি 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'।
নজরুল ছিলেন একজন মানুষ, আর মানুষের যাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। 'বিচক্ষণ' গুণটি মানুষের মৌলিক বুদ্ধিবৃত্তি থেকেই অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। যুক্তিবিদ্যায় যে গুণ যাত্যর্থের অংশ নয় অথচ যাত্যর্থ থেকে সরাসরি নিঃসৃত হয়, তাকে 'উপলক্ষণ' বলে। সুতরাং মানুষের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা একটি উপলক্ষণ।
অপরদিকে, 'হাস্যপ্রিয়' বা হাস্যরস একটি পরিবর্তনশীল গুণ, যা ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় প্রকাশ পায় আবার নাও পেতে পারে। এটি যাত্যর্থের অংশ নয় এবং অপরিহার্যও নয়। তাই যুক্তিবিদ্যার বিধেয়কের দৃষ্টিতে এটি একটি 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'।
সুতরাং, গুণ দুটির আন্তঃসম্পর্ক পর্যালোচনায় দেখা যায়—উভয় গুণই ব্যক্তির স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে এবং যাত্যর্থ-বহির্ভূত হলেও 'বিচক্ষণ' গুণটি যাত্যর্থ-নির্ভর স্থায়ী ফল (উপলক্ষণ) এবং 'হাস্যপ্রিয়' গুণটি একটি আপেক্ষিক ও পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য (অবান্তর লক্ষণ)।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও