বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১: জনাব সুজন তার নানার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পান। এতে তার খালাতো ভাইয়েরা অসন্তুষ্ট হন। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের একটি অংশও গোপনে সুজনের বিরোধিতা করেছিল।দৃশ্য-২: সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সাবেক চেয়ারম্যান জনাব সাদিক স্থানীয় বড় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাবে প্রভাবিত হতেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব ইকরাম জনগণের কল্যাণ, ইউনিয়নের উন্নতিকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের মতামত অনুসারে কাজ করেন। এতে প্রভাবশালীদের সাথে তিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ক)(1)
কে কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন?
- খ)(2)
পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ফরাসিদের ওপর কীরূপ প্রভাব ফেলে?
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এর ঘটনা নবাব সিরাজউদ্দৌলার সময়ের কোন 'সংকটকে' নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর দৃশ্য-২ এর জনাব ইকরামের মনোভাবই বক্সারের যুদ্ধ অনিবার্য করে তোলে? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জব চার্নক কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন।
- খ)
পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয় ফরাসিদের আরও বিপর্যস্ত করে ফেলে। ১৭৫৭ সালে এই যুদ্ধে ফরাসিরা নবাবের পক্ষে ছিল। ইংরেজদের জয়ের ফলে বাংলার ফরাসি বাণিজ্য কুঠিগুলো ইংরেজদের দখলে চলে যায়। পরে কর্ণাটকের যুদ্ধগুলোতে পরাজিত হয়ে ফরাসিরা এদেশ ত্যাগ করে। ফলে ইংরেজরা ভারতবর্ষে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়।
- গ)
দৃশ্য-১ এর ঘটনা নবাব সিরাজউদ্দৌলার সময়ের পারিবারিক ও দরবারি ষড়যন্ত্রের সংকটকে নির্দেশ করছে।
দৃশ্য-১ এ সুজন নানার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পাওয়ায় খালাতো ভাইয়েরা অসন্তুষ্ট হন এবং কর্মচারীদের একটি অংশ গোপনে বিরোধিতা করে। সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে নবাব হলে সিংহাসন নিয়ে ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্রই ছিল তাঁর প্রথম সমস্যা। জ্যেষ্ঠ খালা ঘসেটি বেগম আশাহত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন; তাঁর সঙ্গে যোগ দেন দেওয়ান রাজবল্লভ ও খালাতো ভাই পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা শওকত জঙ্গ। পরে দরবারের অভিজাত, বণিক শ্রেণি ও সেনাপতি মীর জাফরসহ অনেকে নিজ স্বার্থে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এভাবে সুজনের মতো সিরাজউদ্দৌলাকেও নিজের লোকদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল।
- ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি দৃশ্য-২ এর জনাব ইকরামের মনোভাব অনেকটাই বক্সারের যুদ্ধ অনিবার্য করে তুলেছিল, কারণ ইকরাম নবাব মীর কাশিমের স্বাধীনচেতা মনোভাবের সঙ্গে তুলনীয়।
সাদিকের মতো প্রভাবশালীদের হাতের পুতুল না হয়ে ইকরাম জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেন এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান। তেমনি মীর কাশিম প্রজাকল্যাণে সচেতন, স্বাধীনচেতা ও দূরদর্শী শাসক ছিলেন :
১. তিনি ইংরেজদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে সরান এবং দুর্গ ও পরিখা নির্মাণ করেন।
২. তিনি ইউরোপীয় প্রশিক্ষক নিয়োগ করে সৈন্যদের আধুনিক কৌশল শেখান এবং রাজধানীতে কামান-বন্দুক তৈরির ব্যবস্থা করেন।
৩. ইংরেজদের ‘দস্তক’ অপব্যবহারে দেশীয় বণিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি সবার জন্য আন্তঃবাণিজ্যে শুল্ক তুলে দেন। এতে কোম্পানির কর্মচারীদের একচেটিয়া লাভে বাধা পড়ে এবং ইংরেজরা ক্ষুব্ধ হয়।তবে বক্সারের যুদ্ধের পেছনে ইংরেজদের স্বার্থপরতা ও পাটনা কুঠি দখলের মতো পদক্ষেপও ছিল। অতএব, মীর কাশিমের স্বাধীন মনোভাব ও ইংরেজ স্বার্থের সংঘাতই বক্সারের যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল, ইকরামের মতো মনোভাব ছিল তার অন্যতম কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও