ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন

বিদেশ ফেরত জনাব সালেহীন তার রোজগারের ১০ লক্ষ টাকা কালনী ব্যাংকে জমা রাখতে গিয়ে জানতে পারেন এই ব্যাংক ব্যক্তিপর্যায়ে লেনদেন করে না। অন্যান্য ব্যাংকের মুরুব্বী হিসেবে ব্যাংকগুলোর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করে। পরে তিনি গোমতী ব্যাংকে তার টাকা জমা রাখেন।

  1. ক)

    মুদ্রা কী?

    (1)
  2. খ)

    মুদ্রাকে ব্যাংক ব্যবস্থার জননী বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কালনী ব্যাংক কোন ধরনের ব্যাংক? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কালনী ও গোমতী ব্যাংকের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মুদ্রা হলো এমন বস্তু, যা সমাজে বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক ও দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির জন্য সর্বজনগ্রাহ্যভাবে ব্যবহৃত হয়।

  2. খ)

    ব্যাংকের সব কাজ, যেমন আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। মুদ্রা না থাকলে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ দেওয়ার মতো ব্যাংকিং কার্যক্রম চলত না। বিনিময় প্রথার যুগে ব্যাংকিং সম্ভব ছিল না, মুদ্রা প্রচলনের পরই এর বিকাশ ঘটে। এ কারণে মুদ্রাকে ব্যাংক ব্যবস্থার জননী বলা হয়।

  3. গ)

    কালনী ব্যাংক ব্যক্তিপর্যায়ে লেনদেন করে না, অন্য ব্যাংকগুলোর মুরুব্বী হিসেবে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। এটি নোট ইস্যু করে, সরকারের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের তদারকি করে এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে এর সরাসরি লেনদেন হয় না। বাংলাদেশে এ ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  4. ঘ)

    কালনী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং গোমতী ব্যাংক, যেখানে জনাব সালেহীন অর্থ জমা রেখেছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ দুই ব্যাংকের কার্যাবলি ভিন্ন।

    কালনী (কেন্দ্রীয়) ব্যাংকের কার্যাবলি:
    ১. মুদ্রা ও নোট ইস্যু করা।
    ২. সরকারের ব্যাংকার ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা।
    ৩. ব্যাংকারদের ব্যাংক হিসেবে নগদ জমা রাখা এবং শেষ আশ্রয়দাতা হিসেবে ঋণ দেওয়া।
    ৪. ঋণ ও মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য ব্যাংকগুলোর তদারকি করা।

    গোমতী (বাণিজ্যিক) ব্যাংকের কার্যাবলি:
    ১. জনগণের আমানত গ্রহণ করা।
    ২. ব্যবসায়ী ও অন্যদের ঋণ দেওয়া।
    ৩. চেক, ড্রাফট ও এল/সি ইত্যাদি সেবা দেওয়া।

    সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে, আর বাণিজ্যিক ব্যাংক সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন