জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
স্টোমাটা কী?
- খ)(2)
লিমিটিং ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উৎপন্ন গ্যাসের উৎস ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'E' ও 'F" জীবে সংঘটিত প্রক্রিয়ার তুলনা কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের পাতা ও কচি কাণ্ডের বহিঃত্বকে দুটি অর্ধচন্দ্রাকার রক্ষীকোষ দ্বারা বেষ্টিত যে সূক্ষ্ম রন্ধ্র থাকে, যার মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় ও প্রস্বেদন ঘটে, তাকে স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে, যে প্রভাবকটির পরিমাণ সবচেয়ে কম বা সর্বনিম্ন মাত্রায় থাকে এবং যার হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর পুরো প্রক্রিয়ার গতি প্রত্যক্ষভাবে নির্ভর করে, তাকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (সীমাস্থ প্রভাবক) বলে।
উদাহরণস্বরূপ, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলো, তাপমাত্রা, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। উপযুক্ত আলো ও তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও যদি পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব কমে যায়, তবে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যাবে। এখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড লিমিটিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জীব-'E' হলো সবুজ উদ্ভিদ যা সূর্যালোক এবং পানির উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে 'গ্যাস' অর্থাৎ অক্সিজেন () নির্গমন করে। সুতরাং, উৎপন্ন গ্যাসটি হলো অক্সিজেন ()।
সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে উৎপন্ন এই অক্সিজেনের প্রকৃত উৎস হলো পানি ()। এটি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে:
১. হিল বিক্রিয়া (Hill reaction): বিজ্ঞানী রবিন হিল ১৯৩৭ সালে দেখান যে, কার্বন ডাই-অক্সাইডের অনুপস্থিতিতেও উপযুক্ত জারকের উপস্থিতিতে সূর্যালোক ও ক্লোরোপ্লাস্ট পানির ফটোলাইসিস বা বিশ্লেষণ ঘটিয়ে অক্সিজেন উৎপন্ন করে।
২. রুবেন ও কামেনের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ () পরীক্ষা: ১৯৪১ সালে বিজ্ঞানী রুবেন ও কামেন তেজস্ক্রিয় অক্সিজেন আইসোটোপ () যুক্ত পানি () এবং সাধারণ কার্বন ডাই-অক্সাইড () ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ ঘটান। দেখা যায় যে, উৎপন্ন অক্সিজেন গ্যাসটি সম্পূর্ণ তেজস্ক্রিয় ()। পরবর্তীতে সাধারণ পানি ও তেজস্ক্রিয় () ব্যবহার করলে দেখা যায় উৎপন্ন অক্সিজেন তেজস্ক্রিয় নয়।বিক্রিয়া:
অতএব, স্পষ্টতই উদ্দীপকে উৎপন্ন অক্সিজেন গ্যাসের উৎস হলো পানি ()।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'E' জীব (সবুজ উদ্ভিদ)-এ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া এবং 'F' জীব (প্রাণী)-এ শ্বসন প্রক্রিয়া নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এদের মধ্যে তুলনা করা হলো:
১. প্রক্রিয়াগত ধরন: সালোকসংশ্লেষণ একটি উপচিতিমূলক (Anabolic) প্রক্রিয়া, যেখানে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে খাদ্য তৈরি হয়। অন্যদিকে শ্বসন একটি অপচিতিমূলক (Catabolic) প্রক্রিয়া, যেখানে খাদ্যের জারণ ঘটিয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়।
২. সংঘটনের স্থান: সালোকসংশ্লেষণ শুধুমাত্র ক্লোরোফিলযুক্ত জীবদেহে এবং মূলত কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে ঘটে। শ্বসন উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ সকল সজীব কোষে (সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়ায়) ঘটে।
৩. আলোর ওপর নির্ভরতা: সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায় সম্পূর্ণভাবে আলোর ওপর নির্ভরশীল এবং স্বাভাবিক অবস্থায় দিনের বেলায় ঘটে। কিন্তু শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য আলোর কোনো প্রত্যক্ষ প্রয়োজন নেই এবং এটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই অবিরাম চলতে থাকে।
৪. কাঁচামাল ও উৎপাদ: সালোকসংশ্লেষণে কাঁচামাল হিসেবে ও পানি ব্যবহৃত হয় এবং গ্লুকোজ ও উৎপন্ন হয়। অপরদিকে শ্বসনে গ্লুকোজ ও ব্যবহৃত হয়ে ও পানি নির্গত হয়।
৫. শক্তির রূপান্তর: সালোকসংশ্লেষণে আলোকশক্তি এটিপি ও এনএডিপিএইচ-এর মাধ্যমে রাসায়নিক স্থিতিশক্তি হিসেবে শর্করায় জমা থাকে। শ্বসনে সেই স্থিতিশক্তি ভেঙে গতিশক্তি বা ব্যবহারযোগ্য জৈবশক্তি (ATP) ও তাপে রূপান্তরিত হয়।
৬. শুষ্ক ওজনের পরিবর্তন: সালোকসংশ্লেষণের ফলে জীবের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়, পক্ষান্তরে শ্বসনের ফলে জীবের শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়।
সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলীর ভিত্তিতে প্রক্রিয়া দুটি পরস্পরের বিপরীতমুখী হলেও জীবের জীবনধারণ ও বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় সমতা রক্ষায় পরস্পর পরিপূরক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও