বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

সিলেটের অধিবাসী রানা রাজশাহী অঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে ঐ অঞ্চলের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়। ডানেক বছর পূর্ব থেকেই ঐ এলাকা মূলত কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল। তাদের পরিমাপ পদ্ধতি, তাঁত শিল্প, মৃৎ শিল্প, ধাতুর অলংকার ব্যবহার ও তৈরিতে দক্ষতা ছিল। শহরের স্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট, প্রশস্ত রাস্তাঘাট দেখে সে মুগ্ধ হয়।

  1. ক)

    মহাকবি হোমার কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রানার দেখা অঞ্চলের জীবনব্যবস্থার সাথে ইতিহাসের প্রাচীন কোন সভ্যতার মিল. পাওয়া যায়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বর্ণনা যে সভ্যতাকে নির্দেশ করে সেই সভ্যতা "স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিল" উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মহাকবি হোমার গ্রিসের অধিবাসী ছিলেন।

  2. খ)

    মিশরকে নীল নদের দান বলা হয়, কারণ নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি জমে জমি উর্বর হতো এবং সেখানে নানা ফসল জন্মাত। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস তাই বলেছেন, ‘মিশর নীল নদের দান’।

  3. গ)

    উদ্দীপকে রানার দেখা অঞ্চলের জীবনব্যবস্থার সাথে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার মিল পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, পরিমাপ পদ্ধতি, তাঁত ও মৃৎশিল্প, ধাতুর অলংকার এবং পরিচ্ছন্ন সুপরিকল্পিত শহরের কথা আছে। সিন্ধু সভ্যতায় এসব বৈশিষ্ট্য ছিল।

    ১. সিন্ধু অববাহিকার উর্বর জমিতে গম, যব প্রভৃতি চাষ হতো।
    ২. তারা ওজন ও পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহার করত।
    ৩. সুতি কাপড় বোনা, মাটির পাত্র তৈরি এবং তামা, ব্রোঞ্জ ও অন্যান্য ধাতুর অলংকার তৈরিতে তারা দক্ষ ছিল।
    ৪. মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পার শহর ছিল সুপরিকল্পিত, প্রশস্ত রাস্তা ও নর্দমাযুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন।

    এসব মিলের কারণে বোঝা যায়, উদ্দীপকের বর্ণনা সিন্ধু সভ্যতাকে নির্দেশ করছে।

  4. ঘ)

    সিন্ধু সভ্যতা স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে বিশেষ অবদান রেখেছিল—উক্তিটি যথার্থ। এর পক্ষে যুক্তি হলো—

    ১. স্থাপত্য: পোড়া ইটের সুপরিকল্পিত বাড়ি, মহেঞ্জোদাড়োর বৃহৎ স্নানাগার ও শস্যাগার এবং দুর্গ ও প্রাচীর তাদের স্থাপত্য দক্ষতার পরিচায়ক।
    ২. নগর স্থাপনা: সোজা ও প্রশস্ত রাস্তা এবং ঢাকনাযুক্ত নালা-নর্দমার ব্যবস্থা তাদের নির্মাণকৌশলের উৎকর্ষ দেখায়।
    ৩. ভাস্কর্য ও শিল্প: খননে পাথর, ব্রোঞ্জ ও পোড়ামাটির তৈরি মূর্তি পাওয়া গেছে। ব্রোঞ্জের নর্তকী মূর্তি তাদের সূক্ষ্ম ভাস্কর্যশিল্পের নিদর্শন।

    সুতরাং, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য উভয় ক্ষেত্রেই সিন্ধু সভ্যতার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন