ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অনেক লোক রক্তাক্ত ও জখম হয়। এভাবে বেশ কিছুদিন মারামারি, অরাজকতা চলতে থাকলে অত্র এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুজার সাহেব বিবদমান পক্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং এলাকার শান্তিকামী যুবকদেরকে নিয়ে একটি সংঘ গঠন করে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। অপরদিকে আজফার সাহেব জনপ্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে তার এলাকায় রক্তপাত, মারামারি, বিশৃঙ্খলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর প্রধান ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেন।

  1. ক)

    'জাবালে রহমত' কী?

    (1)
  2. খ)

    আবু বকর (রা)-কে কেন ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    আবুজার সাহেব কর্তৃক গঠিত সংঘের সাথে মহানবি (স)-এর প্রতিষ্ঠিত কোন সংঘের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আজফার সাহেবের কার্যাবলি মহানবি (স)-এর মদিনা সনদের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জাবালে রহমত অর্থ রহমতের পাহাড়; এটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত একটি পাহাড়।

  2. খ)

    রাসুল (স.)-এর ওফাতের পর ভণ্ড নবীর আবির্ভাব, ধর্মত্যাগ ও যাকাত অস্বীকার ইসলামকে সংকটে ফেলে। হযরত আবু বকর (রা.) দৃঢ়তার সাথে এসব বিদ্রোহ দমন করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন বলে তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।

  3. গ)

    আবুজার সাহেব কর্তৃক গঠিত সংঘের সাথে মহানবি (স.)-এর প্রতিষ্ঠিত হিলফুল ফুযুল (শান্তিসংঘ)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। আবুজার সাহেব সংঘর্ষরত পক্ষগুলোর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে সংঘ গঠন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

    নবুয়তের আগে আরবে গোত্র-কলহ ও অত্যাচার ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তখন মহানবি (স.) শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে হিলফুল ফুযুল গঠন করেন। এর লক্ষ্য ছিল অত্যাচারিতের সাহায্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা। উভয় ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতি এক।

  4. ঘ)

    আজফার সাহেবের কার্যাবলি মহানবি (স.)-এর মদিনা সনদের আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি রক্তপাত ও বিশৃঙ্খলা নিষিদ্ধ করেন এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করে নীতিমালা প্রণয়ন করেন।

    বিশ্লেষণ:

    ১. শান্তি প্রতিষ্ঠা: মদিনা সনদে রক্তপাত ও অশান্তি নিষিদ্ধ করা হয় এবং সকল পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আজফার সাহেবও তাই করেছেন।
    ২. সকল পক্ষের অংশগ্রহণ: সনদ মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সম্মতিতে হয়েছিল। আজফার সাহেব বিভিন্ন শ্রেণির প্রধানদের সাথে আলোচনা করেছেন।
    ৩. লিখিত নীতিমালা: সনদ ছিল একটি লিখিত সংবিধান; আজফার সাহেবের নীতিমালাও সমাজ পরিচালনার জন্য লিখিত ভিত্তি তৈরি করে।

    সুতরাং, আজফার সাহেবের কার্যক্রম মদিনা সনদের নীতির যথার্থ অনুসরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন