পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: জনাব মিজান নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠা একটি সংগঠনের সদস্য। সংগঠনটির কিছু শাখা রয়েছে, যেগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ক্ষমতা লাভ করে নিজেদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চায়।দৃশ্যকল্প-২: রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭ম শ্রেণির 'ক' ও 'খ' শাখার ক্যাপ্টেন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে 'ক' শাখার শ্রেণিশিক্ষক শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রকাশ্যে এমনভাবে ক্যাপ্টেন বাছাই করলেন যাতে অনেক ছাত্র-ছাত্রী বিব্রতবোধ করল। অন্যদিকে 'খ' শাখার শ্রেণিশিক্ষক এমনভাবে ক্যাপ্টেন বাছাই করলেন যাতে করে সকল ছাত্র-ছাত্রী বিব্রতবোধ না করে উৎসাহ দেখালেন।

  1. ক)

    গণতান্ত্রিক সরকার কী?

    (1)
  2. খ)

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা মুখ্য- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব মিজান কোন ধরনের সংগঠনের সদস্য? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, 'ক' শাখার ক্যাপ্টেন নির্বাচন পদ্ধতির চেয়ে 'খ' শাখার ক্যাপ্টেন নির্বাচন পদ্ধতি বর্তমান সর্বজনস্বীকৃত। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    গণতান্ত্রিক সরকার হলো এমন সরকার, যেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সম্মতিতে শাসনকার্য পরিচালনা করেন এবং জনগণের কাছে দায়ী থাকেন।

  2. খ)

    নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এটি ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রণয়ন ও তা কার্যকর করে। নির্বাচনের সব ধাপ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে বলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়। তাই এ কাজে কমিশনের ভূমিকা মুখ্য।

  3. গ)

    জনাব মিজান রাজনৈতিক দলের সদস্য।

    রাজনৈতিক দল হলো একই নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী একদল নাগরিকের সংগঠন, যারা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে নিজেদের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়। উদ্দীপকে সংগঠনটি নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, এর শাখা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে আদর্শ বাস্তবায়নে আগ্রহী। রাজনৈতিক দলের এসব বৈশিষ্ট্য থাকে। এছাড়া রাজনৈতিক দল জনমত গঠন, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ও সরকার গঠনের কাজও করে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' শাখায় ক্যাপ্টেন নির্বাচন প্রকাশ্যে হয়েছে, ফলে অনেকে বিব্রত বোধ করেছে। 'খ' শাখায় এমনভাবে নির্বাচন হয়েছে যে সবাই উৎসাহী হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় 'খ' শাখার পদ্ধতিটি গোপন ভোট পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি মনে করি 'খ' শাখার পদ্ধতিই বর্তমানে অধিক সর্বজনস্বীকৃত।

    ১. স্বাধীন মত প্রকাশ: গোপন ভোটে কে কাকে ভোট দিলেন তা জানা যায় না। তাই ভোটার ভয় বা চাপমুক্ত থেকে পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে।
    ২. নিরপেক্ষতা: প্রকাশ্য ভোটে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবানদের চাপ থাকে। গোপন ভোটে তা কমে যায়।
    ৩. ব্যাপক ব্যবহার: আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে গোপন ব্যালট পদ্ধতিই প্রচলিত।

    সুতরাং, 'ক' শাখার প্রকাশ্য পদ্ধতির চেয়ে 'খ' শাখার পদ্ধতিই বর্তমানে অধিক গ্রহণযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন