বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
বিজ্ঞান প্রশ্ন
তরল পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য হলো পানি। তবে একটি মানদণ্ড হলো pH। কিন্তু বর্তমানে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
- ক)(1)
স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?
- খ)(2)
পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মানদণ্ডটি জলজ জীবের জন্য কীভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পদার্থটির দূষণ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের বাষ্পচাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমান হয়ে তরলটি ফুটতে শুরু করে, সেই তাপমাত্রাকে ঐ তরলের স্ফুটনাঙ্ক বলে। স্বাভাবিক চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াস।
- খ)
পানি একটি ধ্রুবীয় যৌগ। এর অণু অন্যান্য ধ্রুবীয় ও আয়নিক পদার্থের সঙ্গে আকর্ষণ সৃষ্টি করে সেগুলোকে দ্রবীভূত করতে পারে।
লবণ, চিনি, অ্যালকোহল এমনকি অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো গ্যাসও পানিতে দ্রবীভূত হয়। এতসংখ্যক পদার্থ দ্রবীভূত করতে পারে বলে পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের মানদণ্ডটি হলো পানির pH। এটি পানি অম্লীয়, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে। জলজ জীবের জন্য pH এর ভূমিকা :
১. জলজ জীবের জন্য পানির pH সাধারণত ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে থাকা উপযুক্ত। এ সীমার মধ্যে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী স্বাভাবিকভাবে বাঁচে, খাদ্য গ্রহণ করে ও বংশবিস্তার করে।
২. pH ৬.৫ এর কম হলে পানি অম্লীয় হয়ে মাছের ফুলকা ও ত্বকের ক্ষতি করে এবং বৃদ্ধি ও প্রজনন ব্যাহত হয়।
৩. pH ৮.৫ এর বেশি হলে পানি অতি ক্ষারীয় হয়ে মাছের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
৪. pH ঠিক থাকলে জলজ উদ্ভিদ ও প্লাঙ্কটন ভালো জন্মায়, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য।তাই জলজ জীবের জন্য pH একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক।
- ঘ)
উদ্দীপকের পদার্থটি হলো পানি। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পানি দূষিত হচ্ছে। এ দূষণ রোধে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যায় :
১. শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ : কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং পরিশোধনের পর বর্জ্য নদীতে ফেলা।
২. গৃহস্থালি ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আবর্জনা, প্লাস্টিক ও মলমূত্র সরাসরি নদী-নালায় ফেলা বন্ধ করে সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৩. কৃষিতে সতর্কতা : রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
৪. আইন প্রয়োগ : পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ ও দূষণকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
৫. জনসচেতনতা : পানি দূষণের কুফল সম্পর্কে গণমাধ্যম ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা।সুতরাং, সরকারি উদ্যোগ, শিল্প-কারখানার দায়িত্বশীলতা ও জনসচেতনতার সমন্বয়ে পানিদূষণ রোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও