অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জেন্টু সাহেব সাতক্ষীরায় কাঁকড়া চাষ করে বেশ লাভবান হন। পরবর্তী সময়ে তিনি কাঁকড়া চাষ ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির লক্ষ্যে একটি বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়ার চিন্তা করেন। এতে তার প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হবে। তাই তিনি বিভিন্ন ব্যাংক, আত্মীয়-স্বজন, বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এতেও তার প্রয়োজনীয় মূলধনের সংকুলান হলো না। পরবর্তীতে তিনি এমন দুটি উৎসের কথা চিন্তা করলেন যার মাধ্যমে যৌথ মূলধনী কারবার অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। একটি হলো কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের অংশ এবং অপরটি হলো ঋণের দলিল।

  1. ক)

    অর্থায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    অভ্যন্তরীণ অর্থসংস্থান কেন প্রয়োজন হয় ?

    (2)
  3. গ)

    জেন্টু সাহেবের প্রকল্পের অর্থায়নের উৎসগুলো চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    খরচ,কর সুবিধা ও বাজারে প্রবেশধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকের অর্থায়নের শোষোক্ত উৎস দুটির মধ্যে কোনটি বেশি সুবিধাজনক এবং কেন ?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থায়ন হলো কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের পরিকল্পনা প্রণয়ন, উৎস চিহ্নিতকরণ, তহবিল সংগ্রহ, বিনিয়োগ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মালিকানাধীন মূলধন এবং দৈনন্দিন পরিচালন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অভ্যন্তরীণ অর্থসংস্থান অত্যন্ত প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কোনো ধরনের বহিঃস্থ ঋণ বা সুদের দায় বহন না করে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা যায় এবং ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ তহবিলের ব্যবহার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সুসংহত রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জেন্টু সাহেবের প্রকল্পের অর্থায়নের উৎসগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে চিহ্নিত করা যায়—প্রাথমিক বাহ্যিক উৎস এবং পরবর্তীতে বিবেচিত যৌথ মূলধনী কোম্পানির উৎস:

    ১. অপ্রাতিষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ উৎস:

    • আত্মীয়-স্বজন: অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিগত ঋণ উৎস।
    • বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থা (NGO): মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ উৎস।

    ২. যৌথ মূলধনী কোম্পানির অর্থায়নের উৎস:

    • কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের অংশ: এটি হলো শেয়ার মূলধন বা মালিকানাধীন মূলধন (Equity Capital)।
    • ঋণের দলিল: এটি হলো ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার/বন্ড (Debt Capital)।

    অতএব, জেন্টু সাহেব ঋণভিত্তিক অর্থায়ন এবং শেয়ার ও ঋণপত্রের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দীর্ঘমেয়াদি উৎস ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত শেষোক্ত উৎস দুটি হলো—'শেয়ার' (অনুমোদিত মূলধনের অংশ) এবং 'ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার' (ঋণের দলিল)। খরচ, কর সুবিধা ও বাজারে প্রবেশাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. মূলধন খরচ (Cost of Capital):
    শেয়ারের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ প্রদান বাধ্যতামূলক নয় এবং মুনাফা না হলে লভ্যাংশ দিতে হয় না, তবে সাধারণ শেয়ারের প্রত্যাশিত প্রতিদান বেশি হওয়ায় শেয়ার মূলধনের গড় ব্যয় সাধারণত বেশি হয়। অন্যদিকে, ঋণপত্রের ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ দিতে হয় এবং ঋণপত্রের ইস্যু খরচ তুলনামূলক কম।

    ২. কর সুবিধা (Tax Advantage):
    ঋণপত্রের সুদকে কর-রেয়াতযোগ্য ব্যয় (Tax-deductible expense) হিসেবে গণ্য করা হয়, ফলে কোম্পানির করযোগ্য আয় হ্রাস পায় এবং উল্লেখযোগ্য কর সাশ্রয় হয়। পক্ষান্তরে, শেয়ারের লভ্যাংশ কর-পরবর্তী নিট মুনাফা থেকে বণ্টন করা হয়, তাই এতে কোনো কর সুবিধা পাওয়া যায় না। এদিক থেকে ঋণপত্র অধিক সুবিধাজনক।

    ৩. বাজারে প্রবেশাধিকার (Market Access):
    নতুন বা ঝুঁকিপূর্ণ বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাজারে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি ঋণপত্র বিক্রি করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু অনুমোদিত শেয়ার ছেড়ে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধন উত্তোলন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। তবে ঋণপত্রের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ বা ভোটাধিকার হাতছাড়া হয় না।

    উপসংহার:
    ব্যবসায়ের খরচ ও সুনির্দিষ্ট কর সুবিধার (Tax Shield) দৃষ্টিকোণ থেকে 'ঋণপত্র' বেশি সুবিধাজনক। তবে আর্থিক ঝুঁকিহীনতা ও বাজারে মূলধন সংগ্রহের ব্যাপকতার দৃষ্টিকোণ থেকে 'শেয়ার' বেশি সুবিধাজনক। যেহেতু বড় প্রকল্পে সুদের কর-ছাড় সরাসরি ব্যয় সাশ্রয় করে, তাই মুনাফা অর্জনে সক্ষম প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঋণপত্র একটি অধিকতর সুবিধাজনক মাধ্যম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন