হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সজীবের সাথে পরিবারের অন্যদের সম্পর্ক এখন আর ভালো নেই। সে স্বাভাবিক জীবন থেকে এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছে। তার বিবেক- বুদ্ধিও লোপ পেয়েছে। বর্তমানে সে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত। সজীবের এক সময়ের সহপাঠী সিক্ত সাধু-সজ্জন, বৈষ্ণব সবাইকে দেখলেই হাত জোড় করে মাথায় ঠেকায়। কারও সাথে দেখা হলে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। সে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে।

  1. ক)

    অভিবাদন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ধর্মপথের ধারণা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সজীবের পরিণতি কীসের কুফল? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সিক্তের আচরণটির গুরুত্ব তুলে ধরো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাক্য দ্বারা 'প্রণাম করি' বলে আনত হওয়াকে অভিবাদন বলে। অনেক সময় বাক্য উচ্চারণ না করে কেবল আনত হয়েও অভিবাদন জানানো হয়।

  2. খ)

    যে পথে চললে নিজের মোক্ষলাভ এবং জীব ও জগতের কল্যাণ সাধিত হয়, সেই পথই ধর্মপথ।
    ধর্মপথ ন্যায়, সত্য, অহিংসা ও কল্যাণের পথ। বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বিচারে ন্যায় ও সত্যের পথে চলা এবং ধৃতি, ক্ষমা, আত্মসংযম, অক্রোধ প্রভৃতি নৈতিক গুণ অনুসরণ করাই ধর্মপথ।

  3. গ)

    সজীবের এই পরিণতি মাদকাসক্তি ও ধূমপানের কুফল।

    ধারণা: ধূমপান, মদ, গাঁজা, আফিম, হেরোইন, ফেনসিডিল প্রভৃতিকে মাদক বলা হয়। একবার শুরু করলে তা নেশায় পরিণত হয়, সহজে ছাড়া যায় না। মাদকগ্রহণ অনৈতিক ও অধর্মের পথ, কারণ এতে মানুষের স্বাভাবিক চেতনা বিমূঢ় হয়ে যায়।

    কুফল: মাদক ও ধূমপান দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি করে। ধূমপানে নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিবেকবুদ্ধি হারায়, কখনও মস্তিষ্ক বিকৃত হয়। মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে অসৎ পথ নেয় এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যায়।

    উদ্দীপকের সাথে মিল: সজীবের পরিবারের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে, সে স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরে গেছে, তার বিবেকবুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং সে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত। এগুলো মাদক ও ধূমপানের কুফল।

  4. ঘ)

    সিক্তের আচরণ হলো সাধু-সজ্জনকে হাত জোড় করে নমস্কার জানানো এবং সবাইকে শুভেচ্ছা বিনিময় করা, অর্থাৎ শিষ্টাচার ও প্রণাম। এর গুরুত্ব অনেক।

    নম্র, ভদ্র আচরণকে শিষ্টাচার বলে। এটি মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান এবং নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মের অঙ্গ। হাত জোড় করে মাথায় ঠেকানো নমস্কার, যা প্রণামের একটি প্রকার।

    ১. আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: হিন্দু ধর্মদর্শন অনুসারে জীবের মধ্যে আত্মারূপে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর অবস্থান করেন। সবাইকে প্রণাম করার অর্থ সেই ব্রহ্মকেই প্রণাম করা। তাই এতে সকল জীবের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমদর্শিতা প্রকাশ পায়।
    ২. পারিবারিক গুরুত্ব: মাতা-পিতা ও গুরুজনদের প্রণাম করলে ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। ছোটদের স্নেহ এবং সমবয়সীদের শুভেচ্ছায় পারিবারিক সম্পর্ক মধুর হয়।
    ৩. সামাজিক গুরুত্ব: শিষ্টাচার বা ভদ্র ব্যবহারের দ্বারা মানুষের মন জয় করা যায়। এর ফলে সিক্ত সমাজে সম্মানিত এবং তার স্বাভাবিক জীবন সুন্দর।
    ৪. আদর্শ জীবন গঠন: শিষ্টাচার ধর্মপথে চলার পাথেয়। সজীবের বিপরীতে এই আচরণ মানুষকে সুস্থ ও আদর্শ জীবনের পথে রাখে।

    সুতরাং, সিক্তের আচরণ আধ্যাত্মিক, পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আদর্শ জীবনের অঙ্গ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন