বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০

বিজ্ঞান প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: 'X' এমন একটি প্রক্রিয়া যার ফলে প্রোটোভাইরাস থেকে বহুকোষী জীবের সৃষ্টি হয়েছে। দৃশ্যকল্প-২: প্রতিটি প্রাণিকোষে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম বিদ্যমান যাদের মধ্যে 'A' ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণে অংশগ্রহণ করে।

  1. ক)

    ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন কী?

    (1)
  2. খ)

    প্লাটিপাসকে কানেকটিং লিংক বলার কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এর 'X' প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর 'A' প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে পদ্ধতিতে মাতৃদেহের বাইরে পরীক্ষাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে নিষিক্ত ডিম্বাণু (ভ্রূণ) তৈরি করে পরে মায়ের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়, তাকে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (In vitro fertilization) বলে।

  2. খ)

    প্লাটিপাসের মধ্যে সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী দুই শ্রেণির প্রাণীরই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি সরীসৃপের মতো ডিম পাড়ে, আবার স্তন্যপায়ীর মতো এর শরীর লোমে ঢাকা এবং বুকে দুগ্ধগ্রন্থি আছে। ডিম ফুটে বাচ্চা হলে এটি শাবককে স্তন্য পান করায়। দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য থাকায় একে কানেকটিং লিংক (সংযোগকারী জীব) বলা হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এর 'X' প্রক্রিয়াটি হলো জৈব অভিব্যক্তি বা বিবর্তন (Evolution), যার মাধ্যমে সরল জীব থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল জীবের উদ্ভব হয়েছে।

    ১. ধারা: প্রাথমিক সরল জীব (প্রোটোভাইরাস) থেকে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জীবগোষ্ঠী থেকে নতুন নতুন জীবগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে।
    ২. ক্রমোন্নতি: এই পরিবর্তনের ফলে সরল এককোষী জীব থেকে ক্রমে জটিল বহুকোষী উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টি হয়েছে।
    ৩. কারণ: পরিবেশের পরিবর্তন, বংশগত পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে জীব পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে টিকে থাকে এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটে।

    এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত ক্রমাগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রোটোভাইরাস থেকে বহুকোষী জীবের সৃষ্টি হয়েছে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর 'A' ক্রোমোজোম হলো লিঙ্গ ক্রোমোজোম এবং এর মাধ্যমে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো লিঙ্গ নির্ধারণ। প্রক্রিয়াটি নিচে বর্ণনা করা হলো।

    ১. ক্রোমোজোম গঠন: মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া (মোট ৪৬টি) ক্রোমোজোম থাকে। এর ২২ জোড়া অটোজোম এবং ১ জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোজোম (Sex chromosome)।
    ২. নারী ও পুরুষে পার্থক্য: নারীর লিঙ্গ ক্রোমোজোম দুটি সমান, অর্থাৎ XXXX। পুরুষের লিঙ্গ ক্রোমোজোম দুটি অসমান, অর্থাৎ XYXY।
    ৩. গ্যামেট তৈরি: নারীর সব ডিম্বাণুতে একটি করে XX ক্রোমোজোম থাকে। পুরুষের অর্ধেক শুক্রাণুতে XX এবং অর্ধেকে YY ক্রোমোজোম থাকে।
    ৪. নিষেক: XX বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে XXXX অর্থাৎ কন্যাসন্তান এবং YY বহনকারী শুক্রাণু নিষিক্ত করলে XYXY অর্থাৎ পুত্রসন্তান জন্মায়।

    সুতরাং, পিতার শুক্রাণুর ক্রোমোজোমই (X বা Y) সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন