সাহিত্য পাঠ • অপরিচিতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
প্রায় এক বছর হলো বাজিতপুর নিবাসী কেরামত আলীর ছোট মেয়ে বিজলীর সাথে মনোহরপুর গ্রামের হোসেন মিয়ার একমাত্র ছেলে হাশিমের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই হাশিমের পরিবার বিজলীর উপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন শরু করেছে। বিজলীর অপরাধ- বিয়ের সময় তার বাবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যৌতুকের সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। তাই বিজলীকে নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে এ নির্যাতন।
- ক)(1)
কন্সট' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
অনুপমের মামার মন কীভাবে নরম হলো?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিজলীর সাথে 'অপরিচিত' গল্পের কল্যাণী চরিত্রের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধর।
- ঘ)(4)
যদি অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হতো, তার পরিণতিও কি উদ্দীপকের বিজলীর মতো হতো? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কনসার্ট' (বা 'কন্সট' প্রশ্নে মুদ্রিত) শব্দের অর্থ নানা রকম বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ঐক্যতান বা সমবেত বাদ্য।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শম্ভুনাথ সেনের দেওয়া খাঁটি ও নিখুঁত সোনার গহনা এবং তাঁদের অতুলনীয় আতিথেয়তা দেখে অনুপমের মামার মন নরম হলো।
'অপরিচিতা' গল্পে মামার সন্দেহ ছিল যে মেয়ের বাবা হয়তো যৌতুকের পণ হিসেবে দেওয়া গহনায় ফাঁকি দিতে পারেন। তাই তিনি স্বর্ণকার নিয়ে এসে গহনাগুলো পরীক্ষা করান। যখন স্বর্ণকার গহনাগুলোকে খাঁটি সোনা এবং নিখুঁত বলে রায় দেয় এবং শম্ভুনাথ সেনের বিনয়ী অথচ মর্যাদাপূর্ণ আতিথেয়তা দেখেন, তখন মামা তৃপ্ত হন এবং তাঁর মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর হয়ে মন নরম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিজলীর সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে যৌতুকপ্রথার নির্মম শিকার হওয়ার দিকটিতে, কিন্তু বৈসাদৃশ্য রয়েছে প্রতিবাদী মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশে।
'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন যৌতুকের দাবি মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু বিয়ের আসরে অনুপমের মামার নীচতা ও অপমানজনক আচরণ প্রকাশ পায়। অপরদিকে উদ্দীপকের বিজলীর বাবা প্রতিশ্রুত যৌতুকের অর্থ পুরোপুরি পরিশোধ করতে না পারায় বিজলী শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়। এখানে উভয় চরিত্রই যৌতুকলোভী সমাজের শিকার।
তবে তাদের মধ্যে বড় বৈসাদৃশ্য হলো প্রতিকারের ধরনে। বিজলী নীরবে নির্যাতন সহ্য করে চলে এবং নিজের ভাগ্যকে মেনে নেয়, যা চিরাচরিত অবলা নারীর রূপ। অন্যদিকে কল্যাণী ও তার পিতা শম্ভুনাথ সেন যৌতুকলোভী পরিবারের অন্যায় আচরণের মুখে বিয়ে ভেঙে দিয়ে দৃঢ় প্রতিবাদ জানান। কল্যাণী আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ব্যক্তিত্বময়ী নারী হিসেবে দাঁড়িয়ে নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে, যা নীরবে অত্যাচার সয়ে যাওয়া বিজলীর সাথে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য তৈরি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যদি অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হতো, তবে তার পরিণতিও উদ্দীপকের বিজলীর মতো হওয়ার আশঙ্কা ছিল— এ মতামতটির সাথে পুরোপুরি একমত পোষণ করা যায়।
'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামা ছিলেন অত্যন্ত লোভী, পরশ্রীকাতর ও অর্থলিপ্সু ব্যক্তি। অন্যদিকে অনুপম নিজে ছিলেন ব্যক্তিত্বহীন, প্রতিবাদহীন ও পুরোপুরি মামার আজ্ঞাবহ এক পুরুষ। বিয়ের আসরে বরপক্ষ স্বর্ণকার দিয়ে মেয়ের গায়ের গহনা যাচাই করে চরম নীচ মানসিকতার পরিচয় দেয়।
উদ্দীপকে বিজলীর বিয়ে হয়েছিল যৌতুকলোভী হাশিমের সাথে, যেখানে প্রতিশ্রুত যৌতুকের টাকা পুরোপুরি না পাওয়ায় বিজলীর ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয় এবং সে তা মুখ বুজে সহ্য করে।
অনুপমের সাথে যদি কল্যাণীর বিয়ে সম্পন্ন হতো, তবে অনুপমের মামা যৌতুকের সামান্যতম ঘাটতি বা স্বার্থের আঘাত লাগলেই কল্যাণীর বাবার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন এবং সংসারে কল্যাণীকে নানা অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো। তাছাড়া অনুপম মেরুদণ্ডহীন ও দুর্বল চরিত্রের হওয়ায় মামার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কল্যাণীকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল না। ফলে শম্ভুনাথ সেন ও কল্যাণী দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে নিজেদের সম্মান রক্ষা করেছিলেন। সুতরাং, বিয়ে হলে লোভী শ্বশুরালয়ে কল্যাণীর পরিণতিও বিজলীর মতোই অপমান ও নির্যাতনের হতে পারত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও