হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
রমেশ তার স্কুলের ধর্ম বই পড়ছে। সে শব্দ করে পড়ার মাধ্যমে দেহ ও আত্মার সম্পর্ক মুখস্থ করছে। ছোট বোন তমা তার পড়া শুনে জানতে চায়- আত্মা কী? রমেশ তখন তমাকে দেহ ও আত্মার সম্পর্ক বুঝিয়ে দেয়।সে আরও জানায়, মানুষের জন্ম ও মৃত্যু চক্রাকারে আবর্তিত হয়'।
- ক)(1)
সকল সৃষ্টির মূলে কে রয়েছেন?
- খ)(2)
জীবাত্মা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে তমা তার দাদার কাছ থেকে জীবদেহ ও আত্মা সম্পর্কিত যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে- তা পাঠ্যপুস্তক অবলম্বনে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'মানুষের জন্ম-মৃত্যু চক্রাকারে আবর্তিত হয়'- রমেশের আলোচ্য উক্তিটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর (ব্রহ্ম/পরমাত্মা)।
- খ)
পরমাত্মা যখন জীবের দেহের মধ্যে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে। পরমাত্মা থেকেই জীবের সৃষ্টি। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে বিভিন্ন জীবদেহে বিরাজ করেন। জীবাত্মা জীবের প্রাণ ও চেতনা, যা দেহকে সজীব রাখে।
- গ)
উদ্দীপকে তমা রমেশের কাছ থেকে (প্রশ্নে 'দাদা' বলা হলেও উদ্দীপকে বোন তমা ও রমেশের কথা এসেছে) দেহ ও আত্মার সম্পর্ক সম্পর্কে জেনেছে। তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে বর্ণনা করা হলো।
আত্মার ধারণা: আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মা জন্মহীন, মৃত্যুহীন, শাশ্বত এবং পুরাতন হয়েও চিরনতুন। শরীর বিনষ্ট হলেও আত্মা বিনষ্ট হয় না।
দেহ ও আত্মার সম্পর্ক: দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেহকে আশ্রয় করেই আত্মার অবস্থান, আবার আত্মাকে পেয়েই দেহ সজীব থাকে। দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয় এবং আত্মাহীন দেহ জড়, অর্থাৎ নিশ্চল ও প্রাণহীন। জড় বস্তুর আত্মা নেই।
পরমাত্মা ও জীবাত্মা: পরমেশ্বর জীবাত্মারূপে সকল জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তিনি জীবের জীবন ও প্রাণীর প্রাণ।
এসব জেনে তমা বুঝতে পেরেছে, দেহের মধ্যে অবস্থানকারী আত্মাই জীবের প্রাণশক্তি এবং দেহ আত্মার আশ্রয় মাত্র।
- ঘ)
রমেশের উক্তি 'মানুষের জন্ম-মৃত্যু চক্রাকারে আবর্তিত হয়' হিন্দুধর্মের জন্মান্তরবাদের ধারণাকে প্রকাশ করে। এটি সঠিক এবং পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে: জন্মান্তরবাদ হিন্দুধর্মের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। হিন্দুধর্ম বিশ্বাস করে আত্মা অবিনশ্বর। জীবের মৃত্যুতে আত্মার বিনাশ হয় না, বিনাশ হয় জড় দেহের। মৃত্যু মানে দেহান্তর প্রাপ্তি।
১. গীতার উপমা: গীতায় বলা হয়েছে, মানুষ যেমন পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরে, তেমনি আত্মা পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। এভাবে মৃত্যু ও নতুন জন্ম চক্রের মতো চলতে থাকে।
২. কর্মফলের ভূমিকা: জীব তার কর্ম অনুসারে জন্ম-মৃত্যুর আবর্তে ঘুরপাক খায়। পুণ্যকর্মের ফল ভোগ শেষ হলে আবার মর্ত্যলোকে ফিরে আসতে হয়। 'ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি।'
৩. চক্র থেকে মুক্তির উপায়: কর্মফল ভোগ শেষ হলে জীব মোক্ষ লাভ করে পরমাত্মার সঙ্গে লীন হয় অথবা তাঁর সান্নিধ্য পায়। তখন আর জন্ম হয় না। তাই উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য মোক্ষলাভ।
৪. ধার্মিক-অধার্মিকের পরিণতি: ধার্মিক ব্যক্তি পুণ্যবলে স্বর্গ ও মোক্ষ পান, আর অধার্মিক নরকযন্ত্রণা ভোগ করে আবার জন্ম নিয়ে এই চক্রে আবর্তিত হয়।সুতরাং, রমেশের উক্তিটি পাঠ্যবইয়ের জন্মান্তরবাদের ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ; জীব মোক্ষ না পাওয়া পর্যন্ত জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও