ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: জামিল একজন পাইকারি বিক্রেতা। সে জামতৈল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত তার পণ্য পরিবহনে যে পথটি ব্যবহার করে সে পথটির পরিমাণ অল্প কিন্তু ভারী দ্রব্য পরিবহন, শিল্প ও কৃষিজদ্রব্য ও শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দৃশ্যকল্প-২: অতুল রাজশাহীতে বাস করে এবং সে ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে। তার উৎপাদিত ফসলের জন্য বেলে-দোআঁশ মাটি উপযুক্ত। অপরদিকে কবীর মৌলভীবাজারে বাস করে এবং সেও ফসল উৎপাদনের কাজ করে। তার উৎপাদিত ফসলটি পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে ভালো হয়।

  1. ক)

    বাণিজ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    জামিলের পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত পথটি গড়ে উঠার অনুকূল অবস্থা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অতুল এবং কবীরের উৎপাদিত ফসল দুটির মধ্যে কোনটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিময়কে বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ হলো মানুষের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ দূষণ।
    বনভূমি ধ্বংস করে চাষাবাদ, শিল্প ও বসতি গড়ে তোলায় প্রাণীদের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। অধিক সার ও কীটনাশক এবং তেল, রং, রাসায়নিক বর্জ্যে মাটি ও পানি দূষিত হয়ে মাটির অণুজীব ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসাও এর একটি কারণ।

  3. গ)

    জামিলের ব্যবহৃত পথটি হলো রেলপথ, কারণ জামতৈল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেলপথ (ডুয়েলগেজ) রয়েছে এবং এটি ভারী দ্রব্য, শিল্প ও কৃষিজ দ্রব্য এবং শ্রমিক পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ। রেলপথ গড়ে ওঠার অনুকূল অবস্থা নিম্নরূপ।

    ১. সমতলভূমি: সমতলভূমিতে রেলপথ নির্মাণ সহজ ও খরচ কম। বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চল সমতল, তাই পাহাড়ি, বনাঞ্চল ও জলাভূমি ছাড়া প্রায় সব স্থানেই রেলপথ গড়ে উঠেছে।
    ২. সমুদ্রের অবস্থান: সমুদ্র উপকূলে বন্দর গড়ে ওঠে। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে সমতলভূমিতে রেলপথ গড়ে ওঠে, যেমন চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী অতুল রাজশাহীতে বেলে-দোআঁশ মাটিতে ইক্ষু এবং কবীর মৌলভীবাজারে পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা উৎপাদন করেন। আমার মতে অর্থনৈতিক উন্নয়নে চা অধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

    ১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: দেশে উৎপাদিত চায়ের বেশিরভাগই বিদেশে রপ্তানি হয়। চা কৃষিখাতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য, ফলে দেশের বৈদেশিক আয় বাড়ে।
    ২. অর্থকরী ফসল: চা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ছাড়াও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও পার্বত্য জেলায় চা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
    ৩. অনুপযোগী জমির ব্যবহার: চা ঢালু জমিতে ভালো হয়, যা অন্য ফসলের জন্য কম উপযোগী। ফলে এসব জমি অর্থনৈতিক কাজে লাগানো যায়।

    অন্যদিকে ইক্ষু চিনি ও গুড় উৎপাদনের কাঁচামাল। এটি চিনিশিল্পকে সচল রাখে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় চাষ হয়, ফলে এর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। তবে রপ্তানি আয়ের বিচারে চায়ের অবদান বেশি।

    সুতরাং, অর্থনৈতিক উন্নয়নে অতুলের ইক্ষুর চেয়ে কবীরের উৎপাদিত চা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন