হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

উদ্দীপক-১: চয়নবাবু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেন। এজন্য তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। উদ্দীপক-২: একদিন সঞ্চিতাদেবী একাদশী পালন করছেন। এমন সময় সেখানে একজন ভিক্ষুক এসে খাবার চাইল। তার কাছে কোন খাবার না থাকায় তিনি খুর রেগে যান এবং ভিক্ষুককে তাড়িয়ে দেন।

  1. ক)

    বীরের ধর্ম কী?

    (1)
  2. খ)

    মানুষের মহত্ত্ব সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    চয়ন বাবুর মধ্যে কার নৈতিক আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সঞ্চিতাদেবীকে কি প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষ বলা যায়? পাঠ্যের আলোকে যুক্তি প্রদর্শন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করাই বীরের ধর্ম।

  2. খ)

    মানুষের মহত্ত্বের উৎস হলো মানবতা বা মানবপ্রেম। মানুষের কল্যাণের জন্য যিনি সেবা, ত্যাগ ও কর্মে নিজেকে বিলিয়ে দেন, নিজের মেধা ও শ্রম কাজে লাগান, তিনি মহান। অনেক মহাপ্রাণ ব্যক্তি অন্যের জন্য সর্বস্ব, এমনকি জীবনও উৎসর্গ করেছেন। এভাবে মানবতা গুণের দ্বারা মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়।

  3. গ)

    চয়ন বাবুর মধ্যে বালক তরণীসেন এর নৈতিক আদর্শ ফুটে উঠেছে।

    তরণীসেনের পরিচয়: তরণীসেন রাবণের ভাই বিভীষণের পুত্র। লঙ্কার বীরেরা যুদ্ধে প্রাণ দিলে মাত্র বারো বছর বয়সে সে নিজের মাতৃভূমি লঙ্কাকে রক্ষার জন্য রাবণের কাছে যুদ্ধের অনুমতি চায়। সে ছিল পিতার মতোই ধার্মিক। রথের চূড়ায় রামনামের পতাকা এবং গায়ে রামনামের নামাবলি পরে সে নির্ভয়ে যুদ্ধ করে। এতে সে অসাধারণ সৎসাহস, স্বদেশপ্রীতি ও আত্মত্যাগের পরিচয় দেয়। উপাখ্যানের শিক্ষা হলো, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রয়োগ করার সৎসাহস থাকতে হবে।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: চয়ন বাবু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছেন। প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার এ মনোভাব তরণীসেনের স্বদেশপ্রেম ও সৎসাহসের সাথে মেলে। তিনি এজন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন, যা বীরের ধর্ম পালনের তৃপ্তি।

    সুতরাং, চয়ন বাবুর মধ্যে তরণীসেনের নৈতিক আদর্শ ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    না, সঞ্চিতা দেবীকে প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষ বলা যায় না। কারণ পাঠ্যবইয়ে মানবতাকেই মানুষের প্রধান পরিচয় বলা হয়েছে, আর সঞ্চিতা দেবীর মধ্যে সে গুণের অভাব দেখা যায়।

    মানুষের স্বরূপ: ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, ভয়, হিংসা, লোভ প্রভৃতি সহজাত প্রবৃত্তি পশুরও আছে। শুধু এগুলো দিয়ে মানুষ হওয়া যায় না। মানবতা গুণই মানুষকে অন্য জীব থেকে আলাদা করে। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ‘যার মানবতা নেই তাকে মানুষ বলা যায় না।’

    ১. দয়া ও সহানুভূতির অভাব: সঞ্চিতা দেবী একাদশী পালন করছিলেন। তখন ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক খাবার চাইলে তাঁর কাছে খাবার না থাকায় তিনি রেগে গিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেন। অপরের দুঃখে প্রাণ কেঁদে ওঠাই মানবতা, কিন্তু তিনি সহানুভূতি দেখাননি।
    ২. ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: ধর্মের দশ লক্ষণের একটি অক্রোধ। উপবাসের মতো ধর্মীয় আচার পালন করেও তিনি ক্রোধ সংযত করতে পারেননি।
    ৩. রন্তিবর্মার সাথে তুলনা: রাজা রন্তিবর্মা আটচল্লিশ দিন অনাহারে থেকেও ভিক্ষুক ও কুকুরকে নিজের খাবার দিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ সঞ্চিতা দেবী ভিক্ষুককে সামান্য সাহায্যও করেননি।
    ৪. ধর্মপালনের প্রকৃত অর্থ: ধর্ম পালন মানে কেবল উপবাস নয়, জগতের কল্যাণ ও জীবসেবাও ধর্মের অঙ্গ। ‘জগদ্ধিতায় চ’ অর্থাৎ জগতের হিত সাধন ছাড়া ধর্ম অসম্পূর্ণ।

    সুতরাং, মানবতাহীন আচরণের কারণে সঞ্চিতা দেবীকে প্রকৃত মানুষ বলা যায় না। মানুষ হতে হলে তাঁকে দয়া, সহনশীলতা ও জীবসেবার গুণ অর্জন করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন