বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
বিজ্ঞান প্রশ্ন
কবির তার বাবার কাছে জীব প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারল। বাবা বললেন, "এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জীব ক্লোনিং করা হচ্ছে।"
- ক)(1)
ক্রোমোজোম কাকে বলে?
- খ)(2)
ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বাবার বলা ক্লোনিং এর পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঔষধ শিল্পে উদ্দীপকের প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন জালিকা মোটা ও খাটো হয়ে যে সুস্পষ্ট সূত্রাকার বা দণ্ডাকার কাঠামোতে পরিণত হয়, তাকে ক্রোমোজোম বলে।
- খ)
জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে একটি জীব থেকে কাঙ্ক্ষিত জিন নিয়ে অন্য জীবের দেহে স্থানান্তর করলে সেই জীব নতুন বৈশিষ্ট্য লাভ করে। এভাবে যে উদ্ভিদে অন্য জীবের জিন প্রবেশ করানো হয়েছে, তাকে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ বলে। যেমন, তুলা ও ভুট্টায় আগাছানাশক সহিষ্ণু ও পোকামাকড় প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য প্রবেশ করানো হয়েছে।
- গ)
বাবার বলা ক্লোনিং হলো জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে একই জীব থেকে জেনেটিক্যালি হুবহু অভিন্ন জীব সৃষ্টি। প্রাণীর ক্লোনিং (যেমন ডলি ভেড়া) পদ্ধতির ধাপগুলো হলো:
১. যে প্রাণীটির ক্লোন তৈরি করা হবে, তার দেহকোষ (সোম্যাটিক কোষ) থেকে নিউক্লিয়াস সংগ্রহ করা হয়।
২. অন্য একটি স্ত্রী প্রাণীর ডিম্বাণু থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে ফেলা হয়।
৩. নিউক্লিয়াসবিহীন ওই ডিম্বাণুর ভিতরে দেহকোষের নিউক্লিয়াসটি প্রবেশ করানো হয়।
৪. ডিম্বাণুটিকে বিভাজনের জন্য উদ্দীপিত করা হলে ভ্রূণ তৈরি হয়।
৫. ভ্রূণটিকে একটি পালক মা প্রাণীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে যে বাচ্চা জন্মায়, সেটি নিউক্লিয়াস-দাতা প্রাণীর হুবহু জিনগত প্রতিলিপি বা ক্লোন। - ঘ)
উদ্দীপকের প্রযুক্তিটি হলো জীব প্রযুক্তি। ঔষধ শিল্পে এর ভূমিকা অপরিসীম। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টের দেহে কাঙ্ক্ষিত জিন প্রবেশ করিয়ে সেগুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে ঔষধ তৈরি করা হয়।
১. ইনসুলিন: মানবদেহের ইনসুলিন তৈরির জিন ব্যবহার করে জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত E. coli ও ইস্ট থেকে ইনসুলিন তৈরি হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
২. ইন্টারফেরন: ইস্ট নামক ছত্রাক থেকে হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের ঔষধ (ইন্টারফেরন) তৈরি হচ্ছে।
৩. হরমোন ও অন্যান্য ঔষধ: মানববৃদ্ধির হরমোন (growth hormone) ও GM-CSF তৈরি হচ্ছে। এগুলো যথাক্রমে অস্বাভাবিক খাটো হওয়া রোগ (ডোয়ারফিজম), ক্যান্সার ও এইডস ইত্যাদির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।সুতরাং, জীব প্রযুক্তির কল্যাণে কম সময়ে ও কম খরচে জীবনরক্ষাকারী ঔষধ বেশি পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও