ভূগোল এবং পরিবেশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

A নদী: হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি।B নদী: হিমালয়ের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি।C নদী: আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি।

  1. ক)

    টিলা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমি আদর্শ কেন?

    (2)
  3. গ)

    'A' নদীটির নাম উল্লেখ করে এর গতিপথ বর্ণনা করো।-

    (3)
  4. ঘ)

    'B'ও 'C' কোন দুটি নদীকে নির্দেশ করে? নদীদ্বয়ের মধ্যে কোনটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে অধিক ভূমিকা রাখে? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সমভূমির মধ্যে বা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ছোট ও নিচু পাহাড়কে স্থানীয়ভাবে টিলা বলে; বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এসব পাহাড়ের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

  2. খ)

    সমভূমি মৃদু ঢালবিশিষ্ট ও স্বল্প বন্ধুরতার ভূমি। এখানে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-হাসপাতাল নির্মাণ সহজ হয়। পলি মাটির কারণে সমভূমি উর্বর, ফলে কৃষিকাজ ভালো হয় এবং খাদ্যের জোগান নিশ্চিত থাকে। যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ বলে ব্যবসা-বাণিজ্যও গড়ে ওঠে। তাই স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমি আদর্শ এবং এখানে সবচেয়ে ঘন জনবসতি দেখা যায়।

  3. গ)

    'A' নদীটি গঙ্গা (বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত)।

    গতিপথ:
    ১. গঙ্গা হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
    ২. এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে ভাগীরথী (হুগলি) নামে একটি শাখা বের হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
    ৩. মূল ধারা রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
    ৪. দৌলতদিয়ার কাছে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিশেছে। এই মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'B' নদীটি ব্রহ্মপুত্র (কৈলাস শৃঙ্গের নিকট মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি) এবং 'C' নদীটি কর্ণফুলী (লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি)।

    আমার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে কর্ণফুলী অধিক ভূমিকা রাখে।

    ১. বন্দর: কর্ণফুলীর তীরে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম অবস্থিত। দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দর দিয়ে হয়, ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে এর ভূমিকা সরাসরি।
    ২. বিদ্যুৎ: কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলীতে বাঁধ দিয়ে পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা শিল্প ও গৃহস্থালির বিদ্যুৎ জোগায়।
    ৩. শিল্প: চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী কাগজকলসহ বিভিন্ন শিল্প এর তীরে গড়ে উঠেছে।

    ব্রহ্মপুত্র সমভূমিতে পলি বহন করে কৃষি ও নৌপরিবহনে সহায়তা করে, তবে এর সঙ্গে সমুদ্রবন্দর বা বৈদেশিক বাণিজ্যের সরাসরি যোগ নেই।

    সুতরাং, বন্দর, বিদ্যুৎ ও শিল্পের কারণে কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে অধিক ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন