বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

মঞ্জু সাহেব তার নিজের ফার্ম থেকে সঠিক পদ্ধতিতে রাজস্ব আদায়ের জন্য একটি প্রথা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার ধারণা, এ প্রথার ফলে আয় সুনিশ্চিত হবে এবং বাজেট তৈরির মতো আরও অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে।

  1. ক)

    পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন প্রবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ইংরেজ আমলের ঐতিহাসিক কোন প্রথার সাথে মঞ্জু সাহেব এর প্রথার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, এ প্রথার সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই অধিক ছিল? যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭ সালে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করেন। ইংরেজরা কার্যত শাসনক্ষমতা হাতে রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনিক দায়িত্ব ও দুর্নাম নিজেদের ঘাড়ে নিতে চায়নি। তাই রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা কোম্পানির হাতে এবং শাসনের দায়িত্ব নবাবের হাতে রাখা হয়। এভাবে দ্বৈতশাসন প্রবর্তিত হয়, যাতে কোম্পানি ক্ষমতা পায় কিন্তু দায়িত্ব নেয় না।

  3. গ)

    মঞ্জু সাহেবের প্রথার সাথে ইংরেজ আমলের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মিল রয়েছে।

    ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। এতে নির্দিষ্ট রাজস্বের বিনিময়ে জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা দেওয়া হয়। এর প্রধান সুবিধা ছিল সরকার তার আয়ের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত থাকত, ফলে বাজেট প্রণয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হতো। উদ্দীপকে মঞ্জু সাহেবও সঠিক পদ্ধতিতে রাজস্ব আদায়ের জন্য এমন প্রথা চালু করতে চান, যাতে আয় সুনিশ্চিত হয় এবং বাজেট তৈরির সুবিধা পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    আমি মনে করি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই অধিক ছিল।

    ১. সুবিধা ছিল। সরকারের আয় নিশ্চিত হয়, জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকানা পেয়ে কিছু এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষের ব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। জমিদার শ্রেণি কোম্পানির একনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে ওঠে।

    ২. কিন্তু প্রজাদের পুরোনো স্বত্ব বিলুপ্ত হয়, জমিদার ইচ্ছামতো তাদের উচ্ছেদ করতে পারত। সূর্যাস্ত আইনে নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের মধ্যে খাজনা না দিলে অনেক জমিদারি নিলামে উঠত।

    ৩. জমির সঠিক জরিপ না থাকায় মামলা-বিবাদ বাড়ে। জমিদাররা নায়েব-গোমস্তার ওপর দায়িত্ব দিয়ে শহরে থাকতেন, ফলে প্রজারা নির্যাতিত হতো। অনেকে জমিদারি কিনে আভিজাত্য খুঁজতে গিয়ে দেশীয় পুঁজি ও শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা নষ্ট হয়।

    সুতরাং, সরকার ও জমিদাররা লাভবান হলেও কৃষক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; তাই সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই অধিক ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন